ব্যাংক রেট কমাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0
826

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে ব্যবসারত সরকারী-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের মৌলিক সুদ হার কমানোর সিন্ধান্ত নিয়েছে। এই সুদহারকে ‘ব্যাংক রেট’ বলা হয়।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর ব্যাংক রেট ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে করে ব্যাংকগুলো কম সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল নিতে পারবে।

নির্বাচনের বছরে সুদহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ব্যাংক রেট কমানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাজারে সুদহার কমানোর বিষয়ে একটি বার্তা দিতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাংক রেটে বিভিন্ন ব্যাংককে দীর্ঘমেয়াদে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশ কয়েকটি কর্মসূচির আওতায় ব্যাংকগুলো এ তহবিল পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে তহবিল নিয়ে ব্যাংকগুলো সাধারণত ১০ শতাংশ সুদে গ্রাহকদের ঋণ দেয়। ব্যাংক রেট কমালে ব্যাংকগুলো আরও কম সুদে গ্রাহককে ঋণ দিতে পারবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত প্রায় ৫ হাজার কর্মী গৃহনির্মাণ, গাড়ি ক্রয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাংক রেটে ঋণ পান। আর রেপোর বিপরীতে ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে ধার নিয়ে থাকে। ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের দাবির মুখে গত ১৫ এপ্রিল থেকে রেপোর সুদ ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ব্যাংক রেট ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকের সুদহারে ব্যাপক ওঠানামা হলেও ব্যাংক রেটে হাত দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদহার কমানোর বার্তা দিতে এখন এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সার্কুলার জারি করে বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাজারে মুদ্রা ও ঋণ সরবরাহ সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে প্রতি ৬ মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত জানুয়ারিতে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে সর্বশেষ হিসাবে গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির দাবির মুখে বাজারে আরও তারল্য বাড়াতে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবির) গুলশান কার্যালয়ে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে গত ৩০ মার্চ এক বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেন।

এর দু’দিন পর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএবির নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমার হার (সিআরআর) সাড়ে ৬ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ হবে। একই বৈঠক থেকে রেপোর সুদহার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে ৬ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। গত ১৫ এপ্রিল থেকে যা কার্যকর হয়েছে। সিআরআর কমানোর এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের পর বিভিন্ন ব্যাংকের হাতে নগদ টাকা অনেক বেড়েছে।

সরকারি ব্যাংকগুলো এখন অনেক কম সুদেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদে টাকা রাখতে চাইছে। অবশ্য কিছু ব্যাংকে নগদ টাকার টানাটানি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব পদক্ষেপে তা কমে আসছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here