ব্যাংক কর্মকর্তারাও পাবেন শুদ্ধাচার পুরস্কার

0
362

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শুদ্ধাচার চর্চার জন্য পুরস্কার পাবেন। পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা এবং সততার নিদর্শনসহ ২০টি সূচকের উপর ভিত্তি করে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে তাদের পুরস্কার দেয়া হবে। এক্ষেত্রে শতকরা ৮০ নম্বর পেলেই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবেন। নির্বাচিতদের একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেয়া হবে।

বুধবার দেশের সব তফসীলি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান’ শীর্ষক নীতিমালা ২০১৮ সাল থেকেই কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় : জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শিরোনামে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল মন্ত্রিসভা-বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

জাতীয় শুদ্ধাচার কেীশলের রুপকল্প ‘সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা’ এবং অভিলক্ষ্য ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা’। এ কৌশল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদ এবং অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা কমিটি গঠিত হয়েছে।

এছাড়া সব ব্যাংকে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নৈতিকতা কমিটি গঠন, ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় শুদ্ধাচার কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারিদের পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, শুদ্ধাচারের ২০টি সূচকের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি সূচকের প্রাপ্ত নম্বর থাকবে ৫। এগুলো হলো- পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবা গ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, সমন্বয় ও নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, প্রতিষ্ঠারে প্রতি অঙ্গীকার, উদ্ভাবন ও সূজনশীলতা চর্চা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, উপস্থাপন দক্ষতা, প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে আগ্রহ, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা, সংশ্লিস্ট আইন ও বিধানবলী সম্পর্কে আগ্রহ ও পরিপালনে দক্ষতা এবং কর্তৃপক্ষ থেকে ধার্য্যকৃত অন্যান্য কার্যক্রম।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, পুরস্কারের জন্য বিবেচ্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যূনতম ৩ বছর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চাকরি করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী গুণাবলীর সূচকের বিপরীতে প্রাপ্ত সর্বমোট নম্বরের ভিত্তিতে সেরা কর্মকর্তা কর্মচারী হিসাবে মূল্যায়ন করা হবে। কোনো কর্মকর্তা কর্মচারির প্রাপ্ত নম্বর কমপক্ষে ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

এছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যে কোনো ইংরেজী বর্ষে একবার শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলে তিনি পরবর্তী তিন পঞ্জিকা বর্ষের মধ্যে পুনরায় পুরস্কার পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here