সিনিয়র রিপোর্টার : বিভিন্ন সিকিউরিটিজে পোর্টফোলিও বিনিয়োগই আয়ের বড় উৎস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) লিমিটেডের। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এ খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিপরীতে এ খাত থেকে ১১২ কোটি টাকার মূলধনি মুনাফা পেয়েছে আইসিবি।

নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খাতের কোম্পানিতে আইসিবির সমন্বিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজস্ব পোর্টফোলিওর বিনিয়োগের পরিমাণ ৭ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। মোট বিনিয়োগের মধ্যে ব্যাংকের শেয়ারে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

নিজস্ব পোর্টফোলিও, সাবসিডিয়ারি ও শাখা অফিসের মাধ্যমে এ বিনিয়োগে সর্বশেষ হিসাব বছরে আইসিবির সমন্বিত মূলধনি মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে ১৬ কোটি ৯৭ লাখ মূলধনি মুনাফা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও শাখা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে লোকসান গুনতে হয়েছে আইসিবিকে।

আইসিবির শেয়ারবাজারে বিনিয়োগচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টিতে ১ হাজার ১৪১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে নিজস্ব পোর্টফোলিওর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ৯৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সাবসিডিয়ারির পোর্টফোলিওর মাধ্যমে ২২ ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৮৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এছাড়া শাখা অফিসের পোর্টফোলিওর মাধ্যমে বিনিয়োগ হয়েছে ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

আইসিবির নিজস্ব পোর্টফোলিওর মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবার উপরে রয়েছে বেসরকারি এবি ব্যাংক। সর্বশেষ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারে ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে আইসিবি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১ কোটি ৯৭ লাখ বিনিয়োগ করেছে ব্যাংক এশিয়ায়। সাউথইস্ট ব্যাংকে বিনিয়োগ হয়েছে ৬৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৬২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে আইসিবির। এর বাইরে প্রাইম ৫১ কোটি ৮১ লাখ, ইউসিবি ৪৯ কোটি ৮০ লাখ, পূবালী ৪৯ কোটি ৮৯ লাখ, উত্তরা ৪৫ কোটি ৯ লাখ, ডাচ্-বাংলা ৪৬ কোটি ২২ লাখ, ওয়ান ৩৮ কোটি ২৩ লাখ, আইএফআইসি ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ, ঢাকা ৩৬ কোটি ১১ লাখ, মার্কেন্টাইল ৩৫ কোটি ৬০ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ৩০ কোটি ৪০ লাখ, এনসিসি ৩০ কোটি ২৪ লাখ, ইস্টার্ন ২৮ কোটি ৪৮ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ৩৭ কোটি ৭৮ লাখ।

যমুনা ২৬ কোটি ৯৮ লাখ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ২৫ কোটি ২০ লাখ, ট্রাস্ট ১৫ কোটি ৭৫ লাখ, ইসলামী ১৪ কোটি ৯০ লাখ, এনবিএল ১২ কোটি ৪৬ লাখ, প্রিমিয়ার ১১ কোটি ২১ লাখ, রূপালী ১০ কোটি ৫১ লাখ, সিটি ৯ কোটি ৩৩ লাখ, এমটিবি ৯ কোটি ৮৫ লাখ, এক্সিম ৭ কোটি ৭৯ লাখ, আইসিবি ইসলামিক ২ কোটি ৫৬ লাখ ও এসআইবিএল ব্যাংকের ৮২ লাখ টাকার শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে আইসিবি।

২০১৬-১৭ হিসাব বছরে আইসিবির করপরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪৬১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৫ টাকা ২৫ পয়সা। সমাপ্ত বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে আইসিবির পর্ষদ।

১৯৭৭ সালে তালিকাভুক্ত আইসিবির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬৩২ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৩ কোটি ২৮ লাখ ১২ হাজার ৫০০। এর ৬৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, সরকারের কাছে ২৭ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ১ দশমিক ৪৭ ও বাকি ১ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে শেয়ারটির সর্বশেষ দর ছিল ১৬০ টাকা ৮০ পয়সা। গত এক বছরে এর দর সর্বনিম্ন ৯৮ টাকা ৩০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২১৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৩০ দশমিক ৭৩, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ২০ দশমিক ৫৪।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here