ব্যাংকে বিনিয়োগ কমালে পুঁজিবাজারে ক্ষতির আশঙ্কা

1
532

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে বিদ্যমান তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশে মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়ে ইতিমধ্যে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজার যেন ক্ষতিগ্রত্ম না হয়, সেজন্য পুঁজি একবারে প্রত্যাহার না করে আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে নামিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাহলে নতুন সার্কুলারে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, চলতি মাসের ১৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ একক ও সামষ্টিক সীমার বেশি রয়েছে তা আগামী ২০১৬ সালের ২১ জুলাইয়ের (ব্যাংক কোম্পানি আইন কার্যকর হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে) মধ্যে ক্রমান্বয়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে কোনো ব্যাংক-কোম্পানির মোট বিনিয়োগের বাজার মূল্য সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে উল্লিখিত ওই ব্যাংকের আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না। মোট বিনিয়োগ হিসাবায়নের ক্ষেত্রে যে উপাদানগুলো থাকবে তা হলো- ব্যাংকের ধারণকৃত সকল প্রকার শেয়ার, ডিবেঞ্চার, করপোরেট বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট এবং অন্য পুঁজিবাজার নিদর্শনপত্রের বাজার মূল্য।

এর আগে গত ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ এর সংশোধনী পাস হয়, যা ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০১৩ নামে অভিহিত করা হয়েছে। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা মূলধনের (ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট ক্যাপিটেল) ৪০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়।

তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন পাসের পর ৩ বছরের মধ্যে তা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে ব্যাংকের বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে নির্ধারিত সীমা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের প্রথম খসড়ায় এটি ৪০ শতাংশ ছিল, কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং ফান্ড (আইএমএফ) এটা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে শর্ত আরোপ করে। এ মুহূর্তে ২৫ শতাংশ করলে পুঁজিবাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই এটি আগামী ৩ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধাত্ম নেয়া হয়েছে।

এদিকে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন কার্যকর করতে এখনই পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনলে বর্তমানের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এর প্রভাবে পুঁজিবাজারে যাতে হঠাৎ করে বড় ধরনের দরপতন না ঘটে, সেজন্য নতুন আইনটি বাত্মবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে তিন বছর সময় দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার সংক্রাত্ম আগের নীতিমালাও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। আগের আইন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বা শেয়ার ধারণ করতে পারতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ব্যাংকগুলোতে ৫লাখ কোটি টাকার মোট সম্পদ রয়েছে। সে হিসাবে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ৫০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার ধারণ করতে পারতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য মতে, গত মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে মোট ১৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। কিন্তু সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যাংকগুলো এখন পরিশোধিত মূলধন, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি, রিটেইন আর্নিং ও শেয়ার প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টের সমন্বয়ে যে অর্থ থাকবে তার ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট সমন্বিত মূলধন রয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার। তার ২৫ শতাংশ হিসেবে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ হাজার হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ বিদ্যমান সমন্বিত মূলধন অপরিবর্তিত থাকলে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর ১৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অতীতের মূলধন সংরক্ষণ বাড়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন বছরে মূলধন আরো বাড়বে। তখন আনুপাতিক হারে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণও বেড়ে যাবে। সুতরাং নতুন সার্কুলারে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here