ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পক্ষে ৭২ ভাগ ব্যাংকার

0
1309

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭২ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ব্যাংক রয়েছে তা কমাতে হবে। তবে ১১ শতাংশ ব্যাংকার মনে করেন, ব্যাংকের সংখ্যা ঠিক আছে। আর ১৭ শতাংশ ব্যাংকার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার এক্সপ্লোরিং মার্জার এন্ড একুইজিশন ইন দ্য কনটেক্স অব দ্য ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। কর্মশালায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক মার্জারের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে- তার মধ্যে অন্যতম হলো সুশাসনের অভাব, বোর্ডের গোপন সুবিধা, রাজনৈতিক দুর্বলতা, মানসিকতার পরিবর্তন, পরিচালকদের দুর্বলতা, নেতৃত্ব এবং কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে মার্জারের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে এ ধারণা কিছুটা নতুন। তবে মার্জারের জন্য যে কোনো সময় আমরা প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে আমরা একটা গাইডলাইন করেছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বিদেশে ব্যাপক হারে মার্জার হচ্ছে। সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বড় হওয়ার জন্য মার্জার করে থাকে। তবে আমাদের দেশে ছোট ব্যাংকগুলোর ধারণা, বড়দের সঙ্গে মার্জার হলে বড়রা তাদের খেয়ে ফেলবে। বিডিবিএলেরর ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে সেটা হলো দুটো খারাপ প্রতিষ্ঠান মিলে নতুন একটি খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি এক্সিট পলিসি (বহির্গমন নীতি) থাকা দরকার। কোনো ব্যাংক খারাপ করলে তাকে এ নীতির মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, মার্জার সব সময় খারাপ হয় না। এর ইতিবাচক দিকগুলো দেখতে হবে। আমাদের গ্লোবালাইজেশনের অংশ হতে হলে মার্জারে যেতে হবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াছিন আলি বলেন, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো চালাতে না পারে তাহলে এগুলো প্রাইভেট সেক্টরে ছেড়ে দেয়া উচিত। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আর্থিক খাতের ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here