ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের দায়ে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

0
371

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দায়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে দ্রুত পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু ও কাজী ফিরোজ রশিদ। রবিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাড়িয়ে তারা এ দাবি জানান।

ব্যাংকিং খাত এবং অর্থনীতি ধ্বংস প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা সংসদে অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা।

অর্থমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। লুটপাটের মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আজ অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অর্থনীতির রক্তক্ষরণের কারণে জাতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পানামা পেপার, প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে অর্থনীতিকে দুর্বল করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন? এখনই পদত্যাগ করুন। মানুষকে বাঁচান, জাতিকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। অবসরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচান, আমাদের সবাইকে বাঁচান।

তিনি বলেন, পানামা পেপার, প্যারাডাইস পেপারে তো কোনো রাজনীতিবিদের নাম আসেনি। ভয় কিসের? আজ এখানে যারা ট্রেজারি বেঞ্চে আছেন, আমরা যারা বিরোধী দলে আছি অর্থপাচারের তালিকায় তো আমাদের কারো নাম নেই। যারা টাকা পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। প্যারাডাইস পেপার ও পানামা পেপারে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে জাতি সাধুবাদ জানাবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পানামা পেপার কেলেঙ্কারির ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। অথচ আমাদের দেশের ২৭ জনের নাম এসেছে, কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কত হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে তার কোনো হিসাব দেননি।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন অর্থনীতির যে অবস্থা, সরকারি ব্যাংকের যে অবস্থা এর জন্য নাকি সরকার দায়ী? সরকার দায়ী মানে তো সরকারপ্রধান দায়ী। সরকারপ্রধান তো আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের। সেই দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। আপনি সেই দায়িত্ব নিয়ে ডিসেম্বরে অবসরে না নিয়ে, এখনই অবসর নিন।

ব্যাংকের মূলধন সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, সোনালী, জনতা, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের রিফাইনেন্সিং দরকার। সরকারি ব্যাংকের মূলধন রিফর্ম করতে ২০ হাজার কোটি টাকা দেবেন। গত বাজেটে বলেছিলেন ২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছেন? এই টাকা কার টাকা, গৌরি সেনের টাকা না, ১৬ কোটি মানুষের টাকা। কীভাবে দিলেন, তার কোনো উত্তর নেই।

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, শেয়ারবাজারে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। সূচক নেমেছে তলানিতে। প্রতিটি শেয়ার নিম্নমুখী। শেয়ারবাজার নিয়ে এই মুহূর্তে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো কোম্পানি যদি ২৫ শতাংশ শেয়ার তুলে নেয় তাহলে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। পাবলিক লিমিডেট কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করতে হলে প্রথম লিস্টিং করতে হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন হাজার কোটি টাকা কারা লুটপাট করছে? শেয়ার নিয়ে কারচুপি চলছে। একদল ইন্ডিয়া ঘুরে আসছে, আরেক দল চায়না ঘুরে আসছে। এসে বলছে, এদের দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে নির্দেশ দেন। যেন এভাবে শেয়ার বিক্রি করতে না পারে। এটা হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্য হয়ে যাবে। এটা এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here