ব্যাংকিং খাতে ভালদের জন্য পুরস্কার আর খারাপদের বিচার হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

0
236

স্টাফ রিপোর্টার : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যাংক সেক্টরে রিফর্মস (সংস্কার) এনে ভালোদের পুরস্কৃত করা হবে। আর খারাপ লোক যতই প্রভাবশালী হোক তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পাওনা আদায় করা হবে। রোববার রাজধানীর এক হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সিপিডি বাজেট ডায়লগ ২০১৮’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক অডিটর জেনারেল এম হাফিজ উদ্দিন খান, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির, গণ স্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক সচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী আলোচনা করেন।

সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সঞ্চালনা করেন সংস্থার সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আপনাদের (বিএনপি সরকারের আমলে) সময় কত মাস ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাওয়া যায়নি। আমাদের সময় অনিয়ম হয়নি এমন কথা বলব না। তবে আমরা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের রিফর্মস আনব। রিফর্মস এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করব।

ব্যাংক খাতের কর্পোরেট কর কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, রফতানি ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। কর্পোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি। এ ট্যাক্স নেট যদি আমরা না কমায় বিদেশিরা বিনিয়োগ করবে কেন।

২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিবেশী দেশকে বাংলাদেশ ঋণ দেবে উল্লেখ করে কামাল বলেন, ২০২৩ সাল নাগাদ আমাদের আর অন্য দেশ থেকে টাকা ধার করতে হবে না। আমরা বরং টাকা ধার দেব। চীন আমাদের ঋণ দিচ্ছে, অথচ ওদের ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় ১৮৫ শতাংশ। একশ শতাংশের নিচে কোনো দেশে নেই। আমার লেখা-পড়া যদি সত্য হয়, তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা আশপাশের দেশকে ঋণ দেব।

অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, দেশে দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাপি ঋণ আমাদের আশঙ্কা নয়, বরং আর্থিক খাতের কাঠামোর ধরন নিয়েই আমাদের শঙ্কা। টাকা নেই বলে কোনো ব্যাংককেই কোনো চেক রিটার্ন হয়নি। ফারমার্স ব্যাংককে আমরা হাতে নিয়েছি। এটা লুটপাট এবং শেষ হয়ে গেল এমন মন্তব্য করার সুযোগই এ মুহূর্তে নেই।

এর আগে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ইদানীং দেশের পাঁচ শতাংশ লোকের আয় কতগুণ বেড়েছে তা আমরা জানি না। তবে যা বেড়েছে তা অবিশ্বাস্য। তারা সারা বিশ্বে বাড়ি-ঘর কিনছে। তাদের টাকা রাখার জায়গা নেই।

সিপিডির বাজেট সংলাপে রোববার আয়োজক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা

তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংক লুট করছে, আপনারা তাদের ট্যাক্স কমিয়ে দিচ্ছেন। আবার যারা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না। ব্যাংকিং ডিভিশন বলে আপনারা যে জিনিসটা তৈরি করেছেন, এটাকে অবলপন করে দেন। দয়া করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজগুলো তাদের করতে দেন।

নতুন অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে ব্যবসায়ী নেতা মনজুর আহমেদ বলেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে করজাল বাড়াতে হবে। আমরা এ জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে ছিলাম। কিন্তু বাজেটে তার কোনো প্রতিফল হয়নি।

মুক্ত আলোচনায় এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে বাজেটের আকার বাড়বে।

এনজিও প্রতিনিধি খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলে, বাজেটের আকার প্রতিবারই ৫-২৫ শতাংশ বাড়ছে। ১৯৫৮ সালের কাঠামোতে এখন পর্যন্ত কোন পরিবর্তন আসেনি। তাই আকার বাড়ানোর সঙ্গে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

অতিথিদের বক্তব্যে এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। কারণ ব্যবসায় ব্যয় বাড়ছে। সরকারি অফিসে সময় বেশি লাগছে, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের কথা বলা হলেও তা দেখা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here