ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে এমজেএল বাংলাদেশ

0
523

স্টাফ রিপোর্টার : লুব্রিক্যান্ট ব্যবসায় শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড। সাবসিডিয়ারি ওমেরা পেট্রোলিয়ামকে দেশের এলপি গ্যাসের বাজারে ১ নম্বর অবস্থানে নিয়ে আসতে চায় কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট।

প্রারম্ভিক বছরগুলোয় সক্ষমতা ও মার্কেট শেয়ার বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হলেও এ পরিকল্পনায় সাফল্য এলে আগামীতে মুনাফা মার্জিন বাড়বে, যা এমজেএল বিডির সম্মিলিত মুনাফা বাড়াতে সক্ষম। ভবিষ্যতে শক্তিশালী মৌলভিত্তির সাবসিডিয়ারিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছেন কোম্পানির উদ্যোক্তারা।

লুব্রিক্যান্ট ব্যবসা নিয়ে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মুকুল হোসেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সনমবিলের সঙ্গে কোম্পানির কারিগরি অংশীদারিত্ব, উৎপাদন প্রক্রিয়া, পণ্যের গুণগত মান, রফতানি বাজার, স্থানীয় বাজারে শীর্ষ অবস্থানের নানা কৌশলগত দিক সম্পর্কে জানান। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি এমজেএল বিডির বহরে ১ লাখ ৭ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার দ্বিতীয় বৃহদায়তন অয়েল ট্যাংকারটি যুক্ত হয়েছে, যা আগামীতে কোম্পানির রাজস্ব বাড়াবে।

কোম্পানির গ্যাস ব্যবসার ওপর উপস্থাপিত এক নিবন্ধে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের করপোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক তানজিম চৌধুরী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোম্পানির বিভিন্ন স্থাপনা ও প্লান্টের সচিত্র বর্ণনা দেন।

এলপি গ্যাসের স্থানীয় বাজার, ওমেরা পেট্রোলিয়ামের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার সময় তিনি বলেন, মাত্র তিন বছরে ওমেরা পেট্রোলিয়াম এলপি গ্যাসের স্থানীয় বাজারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দখল করেছে, যা কোম্পানিটিকে দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিপুল চাহিদার এ বাজারে শীর্ষস্থানে উন্নীত হওয়ার জন্য কোম্পানি আগ্রাসী বিনিয়োগ করছে।

পাইপলাইনে আবাসিক-বাণিজ্যিক ও অটোমোটিভ গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে জাপানি গ্যাস জায়ান্ট সাইসানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারির ভিত্তিতে ওমেরা গ্যাস ওয়ান লিমিটেড গঠনের কথা উল্লেখ করে এ কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কোম্পানির প্রধান অর্থ ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বিনিয়োগকারীদের জানান, রেগুলেটরি বাধ্যবাধকতায় প্রতি পাঁচ বছরে দুবার একেকটি সমুদ্রগামী অয়েল ট্যাংকারকে দুই মাসের জন্য স্থলভাগে রেখে রক্ষণাবেক্ষণ (ড্রাই ডকিং) করতে হয়। গেল প্রান্তিকে প্রথম অয়েল ট্যাংকারটি ড্রাই ডকিংয়ে থাকায় কোম্পানির ট্যাংকার রেভিনিউ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৯ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

উৎপাদন থেকে রেভিনিউ ৮ দশমিক ৭১ এবং ট্রেডিং রেভিনিউ ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়লেও ট্যাংকার রেভিনিউর কারণে এ সময় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ইপিএস কমে গেছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধিও কোম্পানির মুনাফা মার্জিনকে প্রভাবিত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য ওমেরা পেট্রোলিয়ামের রেভিনিউ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ড্রাই ডকিং শেষ হয়ে যাওয়া এবং নতুন ট্যাংকারের রাজস্ব যোগ হওয়ায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কোম্পানির আর্থিক ফলাফল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এমজেএল বিডির পরিচালক তানজিল চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তি ও পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না থাকলে কোনো ব্যবসার পারফরম্যান্স টেকসই হয় না। এ কারণেই এমজেএল বিডি প্রতি বছরই নতুন নতুন বিনিয়োগ করে চলেছে, যা মূলত কোম্পানির সম্পদ থেকেই অর্থায়ন করা হচ্ছে। আগামীতে প্রতিটি বিনিয়োগই কোম্পানির রাজস্ব বাড়াবে।

তিনি আরো জানান, লুব্রিক্যান্ট ব্যবসায় মবিলের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পাশাপাশি ওমেরা ব্র্যান্ডের লুব্রিক্যান্টগুলোও বাজারে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে কোম্পানি। গ্যাস ব্যবসায় আগ্রাসী বিনিয়োগ করে বৃহদায়তন কারবারের সুবিধা নিতে চাইছে ওমেরা। লক্ষ্য অর্জনে সফল হলে ভবিষ্যতে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোকে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে চান উদ্যোক্তারা।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত প্রান্তিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) এমজেএল বিডির সম্মিলিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৯৯ পয়সা, আগের বছর একই সময় যা ছিল ৩ টাকা ১৫ পয়সা। এদিকে দ্বিতীয় (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা, আগের বছর একই সময় যা চিল ১ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি কোম্পানির সম্মিলিত সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৩৩ টাকা ৪৩ পয়সা।

২০১১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত ৩০১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ১৬১ কোটি টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ, বিদেশী ১ দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১২ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here