সিনিয়র রিপোর্টার : ব্যবসা সম্প্রসারণে বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ইফাদ অটোস। ২০২০ সালের মধ্যে গাড়ির ব্যাটারি, টায়ারসহ অটোমোবাইল খাতের সব ধরনের পণ্য তৈরি ও বিপণনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এসি বাসের সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি করবে তারা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য কোম্পানির এসব ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি কোম্পানিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ টিপু। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক বহু পরিকল্পনাই আছে। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে সময়মতো তা প্রকাশ করা হবে।

এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একটি গ্রুপ ইফাদের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে কোম্পানির বিভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বহুজাতিক কোনো কোম্পানির সঙ্গে যৌথ মালিকানায় গাড়ির ব্যাটারি ও টায়ার তৈরি ও বাজারজাত করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ইফাদ অটোস। এ লক্ষ্যে একাধিক বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া শিগগিরই এলএনজি চালিত ভারতের টিভিএস ব্র্যান্ডের থ্রি-হুইলার বাজারজাত করবে ইফাদ। আগামী এক মাসের মধ্যে এর ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

কোম্পানিটি এখন ঢাকার ধামরাইতে স্থাপিত গাড়ি অ্যাসেম্ব্বলিং কারখানায় অশোক-লেল্যান্ড ব্র্যান্ডের বাস ও ট্রাকের চেসিস তৈরি করছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নন-এসি বাস এবং নভেম্বর থেকে এসি বাসের পুরো বডি বা কাঠামো তৈরি করবে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৬০০ বাস ও ট্রাকের চেসিস বানায় ইফাদ। ২০২০ সাল নাগাদ তা বছরে ৯ হাজারে উন্নীত হবে।

এদিকে লুব্রিকেন্টস অয়েলের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি গালফ অয়েলের সঙ্গে বাংলাদেশে যৌথভাবে ব্যবসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইফাদ। ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায় গালফ অয়েল বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ শেয়ার কিনতে সমঝোতা চুক্তি করেছে। শিগগিরই শেয়ার ক্রয় এবং যৌথ ব্যবসা শুরুর ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ লাগবে। এদিকে চলমান ব্যবসার চলতি মূলধন ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য বিদ্যমান পাঁচটি শেয়ারের বিপরীতে দুইটি রাইট শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করে ১২৪ কোটি টাকার মূলধন বাড়াতে চায় কোম্পানিটি। গত ২৫ জুলাই ইজিএমে পর্ষদের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন শেয়ারহোল্ডাররা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন পেলে তা কার্যকর হবে।

জানতে চাইলে ইফতেখার আহমেদ বলেন, প্রতিটি কোম্পানিরই কিছু ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকে। এর কিছু বাস্তবায়ন হয়, কিছু হয় না। তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হওয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এখনই তার সবটুকু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সার্বিকভাবে তাদের পরিকল্পনা হলো, গণপরিবহন খাতের সকল প্রকার যান প্রস্তুত ও বাজারজাত করা।

জানা গেছে, গালফ অয়েল বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে দেশের বাজারে লুব্রিকেন্টস অয়েল বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখলে নেওয়ার চিন্তা আছে ইফাদের। বর্তমানে ড্রামে করে রিফাইন্ড লুব্রিকেন্টস আমদানি করে দেশে বোতলজাত করা হয়। ভবিষ্যতে দেশেই রিফাইন্ড প্লান্ট স্থাপন করা হবে।

ইফতেখার আহমেদ জানান, ঢাকার ধামরাইতে স্থাপিত অ্যাসেম্বলিং কারখানা থেকে শিগগিরই চেসিসসহ পুরো গাড়ি তৈরি করা হবে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে অশোক-লেল্যান্ডের সকল বাস ও ট্রাক সাশ্রয়ী মূল্যে রফতানি হবে।

ইফাদ অটোসের ব্যবসা সম্প্রসারণ হতে পারে শেয়ারবাজারে এমন আলোচনা থাকায় শেয়ারটির দাম বাড়ছে। গত বছরের নভেম্বরে কেনাবেচা হয় ৭০ টাকায়। আর গত এক মাসেই দর ১৩০ টাকা থেকে ১৫৪ টাকায় উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here