‘ব্যবসা সম্প্রসারণেই’ আইপিওতে হোটেল সী পার্ল

1
945
হোটেলের চিত্র, ছবি সংগৃহিত।

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজারে যাত্রা শুরু করে আবাসিক হোটেল রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এ্যান্ড স্পা লিমিটেড। পাঁচ তারকা মানের হোটেলটি নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পেয়েছে।

বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রাও শুরু করেছে হোটেল। তবুও মাত্র ১৫ কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন সম্পর্কে কোম্পানির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন আমাদের উদ্দেশ্য নয়, ব্যবসা সম্প্রসারণই মূল উদ্দেশ্য। স্টকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হলে অনেকে তখন নিজের হোটেল মনে করবেন এবং ব্যবসায়িক সুনাম ছড়িয়ে যাবে।

কক্সবাজারের ইনানী বিচে পাঁচ তারকা হোটেল চিত্র

পাঁচ তারকা হোটেল দাবি করে হোটেলের কর্পোরেট অফিসে কথা হলে তিনি বলেন, কক্সবাজার মূল শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ইনানী বিচে ১৫ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এই হোটেল। কক্সবাজারে নামার পরে হোটেলে যেতে আমাদের নিজস্ব যানবাহনের সুবিধা রয়েছে। হোটেল ব্যবসা টিকে থাকে সুনামে। ঐতিহ্যগত ব্যবসায়িক সুনামটা ছড়িয়ে দিতে চাই।

হোটেলে রয়েছে ৪৯৩টি কক্ষ। ৫০০ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে ২০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে দেশের ৯টি বেসরকারি ব্যাংক। ইতোমধ্যে সেসব ব্যাংকের সিংহভাগ টাকা পরিশোধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হোটেলের ১৫৭টি রুম এখনো সম্পূর্ণ রূপে তৈরি করা হয়নি। এসব কক্ষের আসবাবপত্র ক্রয় ও ফিনিশিং কাজে ১০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যবহার এবং ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় হোটেল নির্মাণে আরো জমি কেনা হবে প্রোসপেক্টাসে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই ব্যসায়িক সুনাম। পর্যটনখাতে এর জন্য পর্যটকদের বিশেষ নিরাপত্তা এবং সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে হয়। যা আমরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দিয়ে থাকি। যে কারণে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পরিমাণের বিদেশি পর্যটন হোটেল সী পার্লে থাকেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বড় কারণ হলো- আমাদের বিজ্ঞাপণ দিয়ে হোটেল সম্পর্কে কাউকে আর জানাতে হবেনা। শেয়ারহোল্ডারাই জেনে নেবেন, তাদের হোটেল কেমন চলছে?

একই অভিমত ব্যক্ত করেন ইস্যু ব্যবস্থাপক কোম্পানি বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টে লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও মোহাম্মদ হামদুল ইসলাম।

সী পার্ল বীচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড ১০ টাকা শেয়ারপ্রতি দামে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়বে। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি ১৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পেয়েছে।

উত্তোলিত টাকার মধ্যে ১০ কোটি ৬৮ লাখ ২৭ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে হোটেলের ১৫৭টি রুমের আসবাবপত্র ক্রয় ও ফিনিশিং কাজে ব্যবহার করবে। বাকি টাকার মধ্যে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে জমি ক্রয় ও ১ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৭০০ টাকা আইপিও বাবদ ব্যয় করা হবে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে অনুসারে কোম্পানিটির ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। যা শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হিসাবে হয়েছে শূন্য দশমিক ৬৭ টাকা।

২০১৮ সালের ৩০ জুন নিট শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ টাকা।

২০০৯ সালের ২৬ মে যাত্রা করা কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। তারপর ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর প্রাইভেট কোম্পানি থেকে পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তর হয়।

পেছনের খবর : আইপিও অনুমোদনের অপেক্ষায় হোটেল সি পার্ল

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here