ব্যবসা ভালো তবুও লোকসানে এটলাস বাংলাদেশ

0
295

সিনিয়র রিপোর্টার : চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ভালো ব্যবসা হয়েছে প্রকৌশল খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮৩ শতাংশ বেড়েছে।

তবে মুনাফা মার্জিন কম হওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য বিক্রয় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে কোম্পানিটির। নিজস্ব ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক ফ্যান তৈরির পাশাপাশি মোটরসাইকেলের বিক্রি বাড়লে লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফেরা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

এটলাস বাংলাদেশের চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে উৎপাদন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে ৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিক্রির বিপরীতে উৎপাদন ব্যয় ছিল ৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

বিক্রির চেয়ে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা গ্রস লোকসান হয়েছে কোম্পানিটির, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে গ্রস লোকসান ছিল ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। পরিচালন ব্যয় ও কর পরিশোধের পর আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে, যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বিক্রির তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে এটলাস বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব সঞ্জয় কুমার দত্ত বলেন, আমাদের মুনাফা মার্জিন কম হওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। চীনা মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড জংশেনের তুলনায় ভারতীয় ব্র্যান্ড টিভিএসের বিক্রি বেশি। অথচ জংশেন মোটরসাইকেল বিক্রির ক্ষেত্রে মুনাফা মার্জিন টিভিএসের চেয়ে বেশি।

আর চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে টিভিএসের মোটরসাইকেলের বিক্রি বাড়ার কারণেই আমাদের এত বেশি মুনাফা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে আমরা যদি বছরে ৭ হাজারের বেশি টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের বিক্রি করতে পারি তাহলে এখান থেকে মুনাফা করা সম্ভব হবে।

দেশের প্রথম মোটরসাইকেল সংযোজন কারখানা এটলাস ১৯৬৬ সালে জাপানের হোন্ডা মোটর কোম্পানির সঙ্গে ব্যক্তিগত মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পরে এটলাসকে জাতীয়করণ করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) আওতায় নেয়া হয়।

১৯৯২ সাল থেকে এটলাস ভারতীয় হিরো-হোন্ডা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সংযোজন ও বাজারজাত করে আসছিল। তবে ২০১১ সালে ভারতে হিরো ও হোন্ডা ব্র্যান্ড আলাদা হয়ে যাওয়ার পর কোনোটির সঙ্গেই ব্যবসা ধরে রাখতে পারেনি এটলাস। ফলে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তাদের রাজস্ব ও মুনাফায় এর প্রভাব দেখা গেছে। স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারদরও অনেক কমে যায়।

২০১৫ সালে চীনের অন্যতম ব্র্যান্ড জংশেনের মোটরসাইকেল সংযোজন শুরু করলেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে তা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিন বছর ধরে লোকসান দেখাচ্ছে এক সময়ের ব্লু-চিপ কোম্পানিটি। তবে গত বছর টিভিএসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের চুক্তি করেছে কোম্পানিটি, যার আওতায় নিজেদের সংরক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতার বাজারে একটি ভালো অবস্থান করে নেয়ার আশা করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিকল্পনার বিষয়ে কোম্পানি সচিব সঞ্জয় কুমার দত্ত জানান, মোটরসাইকেল সংযোজনকারী থেকে উৎপাদক হিসেবে বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শুরুর জন্য চীনের চংকিং জংশেন আই/ই করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের চাহিদা অনুসারে তাদের সহযোগিতায় মোটরসাইকেল সংযোজন লাইন আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি শেষ হলে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মোটরসাইকেল সংযোজন করা সম্ভব হবে।

তাছাড়া টিভিএসের সঙ্গে মিলে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এটলাস ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক ফ্যান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সামনে মোটরসাইকেলের ক্রয়াদেশ পাওয়া যাবে।

আশা করছি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আগামী হিসাব বছর শেষে লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরতে পারবে এটলাস বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here