বৈধ শর্টসেলের সুযোগ দিতে সিএসইর প্রস্তাব

1
1000
ডেস্ক রিপোর্ট : বাজার সৃষ্টিকারী বা মার্কেট মেকারকে বৈধ শর্টসেলের সুযোগ দিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বাজার সৃষ্টিকারী) বিধিমালা, ২০০০ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। সম্প্রতি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) এ-সংক্রান্ত একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং রেগুলেশন, ২০০৫ অনুসারে স্টক ব্রোকার ও ডিলার প্রয়োজনে শর্টসেল করতে পারে। আর এ ধরনের শর্টসেল মূলত একটি লেন্ডিং-বোরিং এগ্রিমেন্ট। আর পূর্বানুমতি নিয়েই এ শর্টসেল করা যায়। সিএসইর বর্তমান নীতিমালা অনুসারে স্টক ব্রোকার ও ডিলার নিজস্ব এবং ক্লায়েন্ট হিসাব থেকে এ ধরনের শর্টসেল করতে পারে।

বাজার সৃষ্টিকারী মূলত শেয়ারদরের বড় উত্থান-পতন ঠেকাতে কাজ করবে। বাজারে অত্যধিক ক্রয়চাপ ও বিক্রয়চাপ সামাল দিয়ে বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করবে। মুনাফা করার উদ্দেশ্য থেকে বাজার সৃষ্টিকারী শর্টসেল করতে পারবে না। এক্ষেত্রে সিএসইর নীতিমালা অনুসারে বাজার সৃষ্টিকারীর জন্য শর্টসেল বৈধ করা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার সৃষ্টিকারী নীতিমালা সংশোধনের ক্ষেত্রে বাজার সৃষ্টিকারী যেন বৈধভাবে শর্টসেল করতে পারে— এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে আরো বলা হয়, প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে বাজার সৃষ্টিকারীদের জন্য এ ধরনের শর্টসেলের বৈধতা রয়েছে।

এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রেক্ষাপট অনুসারে বিদেশী সিকিউরিটিজ ও ডেরিভেটিভস ব্রোকারদের বাজার সৃষ্টিকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার হিসেবে সনদপ্রাপ্ত কোম্পানি বাজার সৃষ্টিকারী হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাজার সৃষ্টিকারীর ন্যূনতম ক্রয়-বিক্রয় আদেশ ১ লাখে উন্নীত করতে সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে এর পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। মূলত সংশ্লিষ্ট আইনটি ২০০০ সালের। এতে বর্তমান বাজার প্রেক্ষাপট চিন্তা করে আদেশের পরিমাণ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সিএসই।

বিদ্যমান আইন অনুসারে, বাজার সৃষ্টিকারী কমিশনের নির্ধারিত সমপরিমাণ টাকার সিকিউরিটিজ প্রতিদিন লেনদেন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ধারাটি সংশোধন করে নির্ধারিত অঙ্ক ৩০ লাখ টাকায় নির্ধারণ করতে সুপারিশ করেছে সিএসই।

বাজার সৃষ্টিকারী স্টক এক্সচেঞ্জে সময়মতো লেনদেন ফিস প্রদান করবে। এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে বিশেষ ফিস আংশিক ছাড় দিতে পারবে। এমন একটি নতুন বিধান যুক্ত করতে সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাজার সৃষ্টিকারীকে উত্সাহী করতে স্টক এক্সচেঞ্জ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। তাই বাজারের স্বার্থে এ ধরনের বিধান সংযুক্ত করা যেতে পারে।

বাজার সৃষ্টিকারীর ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১০ লাখ টাকার সুপারিশ করেছে সিএসই। এছাড়া ন্যূনতম নেট মূলধন ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। বাজারের তারল্য বজায় রাখতে এ সুপারিশ করছে সিএসই। এছাড়া বাজারে প্রতিটি সিকিউরিটিজের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচজন বাজার সৃষ্টিকারী থাকতে পারবেন, এমন একটি নির্দেশনা জারি করতেও সুপারিশ করছে সিএসই।

বাজার সৃষ্টিকারীর অন্যান্য কার্যক্রম ও মার্কেট মেকার কার্যক্রম আলাদা রাখার সুপারিশ করেছে সিএসই। এক্ষেত্রে বাজার সৃষ্টিকারীর আলাদা আইডি নম্বর, আলাদা লেজার হিসাব সংরক্ষণ, আলাদা ক্লিয়ারিং হিসাব খোলা ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এছাড়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘এ’ ও ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ারে বাজার সৃষ্টিকারী কার্যক্রম চলতে পারে বলে সিএসইসি সুপারিশ করেছে।

প্রসঙ্গত, বাজারের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে বাজারে সৃষ্টিকারী ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক পতন ও উত্থান রোধে বাজারে সৃষ্টিকারী রয়েছে। বর্তমান আইন অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নির্ধারিত পৃথক ট্রেডিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার সৃষ্টির জন্য কোনো অনুমোদিত সিকিউরিটি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। বিএসইসি স্টক এক্সচেঞ্জ বা বাজার সৃষ্টিকারী নিজ উদ্যোগে তালিকা তৈরি করবে। তবে বিএসইসির অনুমোদন নিতে হবে।

এদিকে বর্তমানে এ বিষয়ে আইন থাকলেও বাজার সৃষ্টিকারী নেই। শেয়ারবাজারের মন্দা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও বড় ধস ঠেকাতে যাচাই-বাছাই করে মার্কেট মেকার তৈরি করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র : বণিক বার্তা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here