মুদ্রানীতি বেসরকারিখাত বান্ধব নয় : ডিসিসিআই

0
479

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি ঘোষিত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৫) মুদ্রানীতি বেসরকারিখাত বান্ধব নয় বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মুদ্রানীতির বিষয়ে রোববার(২রা আগষ্ট) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে ডিসিসিআই।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুলাই ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের সতর্কমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা ও জিডিপি ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হয় মূদ্রানীতি।

এবারের মুদ্রানীতি বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে সার্বিকভাবে তেমন আকৃষ্ট করছে না বলে মনে করছে ডিসিসিআই। যদিও আরো উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো প্রয়োজন দেশের বেসরকারি খাতে কমে যাওয়া বৈদেশিক বিনিয়োগ।

তারা জানায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য দেশের সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার সহায়ক নয়। বেসরকারি খাতে ১৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের সুদের উচ্চ হার, ব্যবসা পরিচালনব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন মুদ্রাস্ফীতিকে আরো প্রভাবিত করতে পারে।

তারা আরো জানায়, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা বৈদেশিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছে। স্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতার অভাবে এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি কেবল দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার নিদর্শন।

সম্মেলনে তারা জানায়,  আমদানির হার ১২ শতাংশ বেড়েছে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে। আর রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমানের ক্রমাগত ওঠানামায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে। সুতরাং, রপ্তানিআয় কমে যাওয়ার সঙ্গে আমদানিব্যয় বৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাছাড়াও, এবারের মুদ্রানীতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা নেই ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীভুক্ত ও খেলাপি ঋণ আদায় এবং সহনীয় পর্যায়ে তা নামিয়ে আনার।

আর্থিক খাত ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত স্থিতিশীল না হবে, আগামী ছয়মাসে এ ব্যবস্থার তেমন সুফল পাওয়া যাবে না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষায়, দেশের উৎপাদনশীল খাতগুলো কম সুদে ঋণ সুবিধা পাবে।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হারে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রায় শিল্পায়ন তরান্বিত করতে হবে বলে জানায় ডিসিসিআই। একইসঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থায় আরো গতি সঞ্চারেও তাগিদ দেয় তারা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, সুদের হার কমানো এবং ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় হ্রাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যাংক ঋণের সুদহার কামানো হলে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here