বৃত্তরূপ পতনের এক ধাপ শেষ করল সুচক

0
1795

মোহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান : অবশেষে বৃত্তরূপ পতনের এক ধাপ শেষ করল সুচক। বাজার বিশ্লেষনে দেখা যায় গত সেপ্টেম্বর মাসে যেখানে ইনডেক্স ছিল ঠিক সেখানেই আবার ফিরে এসেছে। কিছুতেই কাটছে না বাজার দৈন্যতা। অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, এক-পা এগোয় তো তিন পা পিছিয়ে যায়। অর্থাৎ সূচক একদিন বাড়ে তো তিন দিন কমে। যতটুকু সূচক বাড়ছে তার চেয়ে বেশি কমে যায়। এমন পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীরা লেনদেন নিয়ে দোটানার মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে আস্থা সংকট। একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি, অন্যদিকে পুঁজিবাজারে দৈন্যদশায় দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। তারা বুঝে ওঠতে পারছে না এখন কি করা উচিত। তারা বাজারের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। যে কারণে ডিভিডেন্ডের মৌসুমেও ঘুরে ফিরে পতনের বৃত্তে অবস্থান করছে বাজার।

Screenshot_1

বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবেই যে বাজার পতনের বৃত্তে অবস্থান করছে এটা বললে ভুল হবে। হয়তো রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তা বলা যায়। তবে এখনো যে বাজারে কারসাজি হচ্ছে না, তা বলা যাবে না। কারণ বর্তমানে অনেক মৌলভিত্তির কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করছে। এরপরও ওইসব কোম্পানির দর খুব একটা বাড়ছে না। বরং অনেক কোম্পানির শেয়ার দর ধারাবাহিকভাবে কমছে। অথচ একই পরিস্থিতির মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে লোকসানি ও স্বল্পমূলধনী কোম্পানির শেয়ার দর।এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই কারসাজি।

Screenshot_3

যে কারণে মৌলভিত্তির শেয়ার দর না বাড়লেও বাড়ছে দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ার। কারণ এসব দুর্বল কোম্পানি নিয়ে সব সময় কারসাজি হয়ে আসছে। এর ফলে বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে পারছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা উচিত। তা না হলে বাজার এখন যে পর্যায়ে আছে তার চেয়েও তলানিতে চলে যাবে।

এদিকে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের উভয় শেয়ার বাজারে সূচকের নিম্মমুখী প্রবণতায় চলছে লেনদেন। এদিন শুরু থেকেই সূচকে পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার প্রথম দেড় ঘন্টায় সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশীরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে এসময়ে টাকার অংকে লেনদেনে রয়েছে আগের দিনের তুলনায় কিছুটা গতি।

Screenshot_2

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আজ ডিএসইতে ২৮৯ কোটি ৭১ লাখ  টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে  ৩৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন এ বাজারে লেনদেন হয়েছিল ২৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার। সোমবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩০৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ২২৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে  ২৪টির শেয়ার দর।

ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ৫৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে  ৪ হাজার ৪৪৭ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯১ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৯০ পয়েন্টে।

টাকার পরিমাণে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি হচ্ছে- গ্রামীণফোন, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, ইফাদ অটোস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, এসিআই লিমিটেড, শাশা ডেনিমস, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, এমজেএল বাংলাদেশ এবং সিঙ্গার বাংলাদেশ।

এর আগে রোববার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স অবস্থান করে ৪৫৩৬ পয়েন্টে। ওই দিন লেনদেন হয় ২৫৩ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

Screenshot_4

ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে জ্বালানি এবং শক্তি খাতের। কারন হিসেবে খেখা যায় ,স্থানীয় রিফাইনারিগুলো থেকে কেনা জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তের একাংশ স্থগিত হয়ে গেছে। সোমবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ওই অংশ স্থগিত করে আদেশ জারি করে। আর এ কারনেই আজ জ্বালানি এবং শক্তি খাতের ব্যাপক উঠা নামা করতে দেখা যায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ এবং রসায়ন খাতটি।  এর পরই প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলোর লেনদেন হয়েছে। খাতটির বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমলেও মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের প্রায় ১২ ভাগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here