শ্যামল রায়: ‘বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে যতটুকু অবদান রাখার কথা পুজিবাজার ততটুকু অবদান রাখতে পারছেনা। তাই বলে কি এই চাল চিত্রটাই আমরা সবসময় দেখতে চাই? একদম না। বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়ন বহিঃ বিশ্বে সবার নজর কেড়েছে। তাই সরকারের উচিৎ পুজিবাজার নিয়ে ভাবা। কারন পুজিবাজার দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পুজিবাজার কেন ভাল করতে পারছে না তার কিছু কারনও রয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কিংবা বড় বড় কোম্পানিগুলোর টার্গেট অনুযায়ী লাভ করতে না পারা। কেন এরকম হচ্ছে। এগুলো নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা করা দরকার।’

কথাগুলো বলছিলেন শেয়ার বাজারের একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী খুরশীদ হাসান। স্টক বাংলাদেশের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় জানালেন তার বিনিয়োগভাবনার কথা।

আমার বিশ্বাস বাজার সামনে আরও ভালো হবে। যেহেতু সামনে নির্বাচন, তাই সরকার শেয়ার বাজার নিয়ে বেশি ঝামেলা করতে চাইবেনা। আর সরকারের কঠোর নজরদারী থাকলে শেয়ার বাজারে মন্দা হওয়ার কোন কারণ নাই। তবে আমাদের বিনিয়োগকারীদেরও দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে হবে।

লং ট্রাম ও প্রফিটের চিন্তাভাবনা করতে হবে। ডে-ট্রেডিংয়ের অভ্যাস থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। আসলে পুজিবাজার বিনিয়োগের স্থান। ফাটকা বাজার নয়। এখানে বিনিয়োগ করলেই সাথে সাথে মুনাফা করা যায়না। সময় নিয়ে ধর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়।

সামনে যেহেতু বাজেট। কাজেই সবার বিনিয়োগ ভাবনা এখন বাজেট লক্ষ্য করে নিতে হচ্ছে। মাত্রই ডিভিডেন্ট দিয়েছে কিছু কোম্পানি আরও কিছু হয়তো দেয়ার অপেক্ষাই এজন্য পুজিবাজারে একটি স্থিতবস্থা বিরাজ করছে। তবে এরকম অবস্থা খুব বেশি দিন থাকবে না। পুজিবাজার সামনে ভালো হবেই।

আর যেসব খাত বাজেটে গুরুত্ব পাবে সেসব খাত বিনিয়োগকারীরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ চালাক এবং বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা তাদের  বিজনেস প্লান তৈরী করছেন। কোন কোন খাতে তারা বিনিয়োগ করবেন। তবে বাজেটে যেসব খাত গুরুত্ব পাবে সেসব খাততো অবশ্যই ভালো করবে। এখন বিনিয়োগকারীরা বেশ সচেতন। তারা ঝুকিমুক্ত বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

শেয়ার বেচা-কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু স্ট্রাটেজি মেনে চলা দরকার বলে আমি মনে করি বললেন খুরশীদ। অর্থাৎ শুধু দর দামের উপর ভিত্তি করে শেয়ার বেচা-কেনা করা উতিৎ নয়। ব্যবসা করবেন অথচ সময় দিবেন না তাহলে ব্যবসা ভালো হবে কিভাবে। কেউ যদি শেয়ার বাজারে এসেই লাভ করতে চায়, লস তার অবশ্যই হবে।

স্ট্রাটেজি ভালো থাকলে মন্দা বাজার থেকেও মুনাফা করা সম্ভব। বিশেষ করে স্বল্প মেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া মুশকিল। এই জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা থাকা দরকার। আমি নিজে কেনার আগে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত দেখে নিই। মূল্য আয় অনুপাত যতকম বিনিয়োগের ঝুকি ততকম। আর শেয়ার ফ্লোটিংটাও একটা ফ্যাকটর।

চাহিদা যোগানের সূত্র অনুসারে শেয়ার সংখ্যা কম হলে তার মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে শেয়ার সংখ্যা বেশি হলে বাজারে খুব বেশি সহজ লভ্য হয় ফলে মূল্য কমে যায়। অনুমোদিত মূলধন আর পরিশোধিত মূলধন এর পরিমান কাছেকাছি থাকলে বোনাস ও রাইট শেয়ার ইস্যু করা বেশ কঠিন।

গত ৩/৪ বছরের ট্রাক রেকর্ড অবশ্যই দেখা দরকার। কি পরিমান ডিভিডেন্ট দেয় তাও বিবেচ্য। ডিএসই এখন ৪ মাস পরপর কোম্পানির আর্নিং রিপোর্ট দেয়। একটু চেষ্টা করলেই কি পরিমান লাভ হতে পারে তা বের করা সম্ভব। এরকম একটি সুত্র আছে ১০টি ট্রেডের মধ্যে ৩টি তে লাভ ভাল হলেই অনেক লাভ করা সম্ভব যদি অন্য ৭টি তে আমি লস কম করি। অল্প পুজি নিয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ শেয়ার ক্রয় করাও লসের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। অল্প সময়ের জন্য বিনিয়োগ করলেও মূলধন ঝুকিতে পড়তে পারে। খাম খেয়ালীভাবে ক্রয়-বিক্রয় করলেও লস হতে পারে। শৃংখলা থাকা অবশ্যই জরুরী। তা-না হলে ব্যবসা করা যাবে কিন্তু লাভ করা যাবে না।

ডিএসই, সিএসই এবং বিএসই ভালই করছে তবে আমি আশা করবো তাদের ভূমিকা আরও ভালো হবে। কারণ এতগুলো মানুষের বিনিয়োগ ঝুকিপূর্ণ রাখা কখনও এর  দায় এই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।

 

4 COMMENTS

  1. কাকে বিনিয়োগ বলে জানি না। 4 বছরের কাছাকাছি তাল্লুতে বিনিয়োগ করে কি পেলাম? মিথুন নিটিং এ বিনিয়োগ করে কি পেলাম সিভিও ব্যাংক এমন অনেক শেয়ার আছে কিছুই দেয়নি।।।।এসব বাজে কথা বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ নেই আর হবেও না কারন সব চোর।।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here