বুক-ব্লিল্ডিং পদ্ধতির ব্যবহার ‘নির্ভেজাল’ নয়

0
410

সিনিয়র রিপোর্টার : বুক-ব্লিল্ডিং পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে বারবার ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে। কোম্পানির শেয়ার দর নির্ধারণ নিয়ে কোন পক্ষকেই সন্তুষ্ট করা যাচ্ছেনা। তাই দ্রুত ৮ থেকে ১০ টা কারেকশন প্রয়োজন।

বুক-ব্লিল্ডিং পদ্ধতির বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে এসব কথা বলেন এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব এইচ মজুমদার।

দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের লাইভশো অনুষ্ঠানে সম্প্রতি তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বুক-বিল্ডিং পদ্ধতি পৃথিবীতে একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। পৃথিবীর অনেক দেশে প্রচলিত আছে। তবে ফিক্সট প্রাইস মেথডের খুব কম দেশে প্রচলন আছে।

সবখানে কোম্পানির প্রাইস ডিসকভারির মাধ্যমে বাজারে শেয়ার আসে।

আমাদের দেশে যেহেতু একবারে বুক-ব্লিল্ডিংয়ে যাওয়া যাচ্ছেনা, সেজন্য আমদের ফিক্সট প্রাইস মেথড রয়েছে। আসলে এটাও থাকা উচিত নয়, সবগুলো কোম্পানির বাজারে রোডশো হবে। কোম্পানির শেয়ার দাম কতো হবে- এজন্য রোডশো হবে, এলিজেবল ইনভেস্টররা বিডিং করে প্রাইস নির্ধারিত করবে। অন্যান্য দেশে যা হয়।

এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব এইচ মজুমদার

মাহবুব এইচ মজুমদার বলেন, আমাদের সমস্যা- বুক-ব্লিল্ডিং পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে বারবার ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে। এমন অভিযোগের কারণে বুক-ব্লিল্ডিং অনেকদিন বন্ধ ছিল। তারপরে আবার চালু হয়েছে। এখনো দেখা যাচ্ছে- আমরা সব পক্ষকে সন্তুষ্ট (সেটিসফাইড) করতে পারছি না। এর সিস্টেমটা একদম নির্ভেজাল, স্বচ্ছ বলা যাচ্ছে না। এখানে অনেকগুলো সংস্কারের (কারেকশনের) প্রয়োজন রয়েছে।

আইপিওতে দর পাওয়া নিয়ে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী এবং ইস্যুয়ারকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট (সেটিসফাই) করা যাচ্ছে না বা যাবে না। পৃথিবীজুড়ে বুক-ব্লিল্ডিং পদ্ধতি প্রচলিত আছে। কিন্তু আমাদের দেশে নির্ভেজাল সেই সিস্টেম দরকার।

দেশের শীর্ষ এই মার্চেন্ট ব্যাংক কোম্পানির সিইও বলেন, আমাদের দেশে বারবার ধাক্কা খাওয়ার কারণগুলো বা কিছু বেসিক প্রব্লেম সমাধান করতে হবে। ইতোমধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশন এই নিয়ে কাজ করছে।

কারেকশনের মধ্যে- বিডিংয়ের সময় প্রাইস দেখা যাচ্ছে কিন্তু এটা দেখানো যাবেনা। যতোক্ষণ বিডিং চলুক প্রাইস না দেখানোই ভালো। আরো আছে- যে, যে দামে শেয়ার চায় (বিডিং) তাকে সেই দামে সেই পরিমাণ শেয়ার নিতেই হবে। এর থেকে সরে আসতে হবে। এমন ৮থেকে ১০টা কারেকশন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন দ্রুত সমাধান করলে পারফেক্ট বুক-ব্লিল্ডিং সিস্টেম চলে আসবে।

কোম্পানি এবং যোগ্য বিনিয়োগকারীর মধ্যে যোগসাজশ সম্পর্কে তিনি বলেন, সিস্টেম যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে অভিযোগ থাকবে। বিনিয়োগকারী অনেকে বলেছেন, শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইস্যুয়ার কোম্পানি থেকে বলা হচ্ছে- আমরা শেয়ারের সঠিক মূল্য পাচ্ছিনা, অবমূল্যায়িত হচ্ছে।

সিস্টেম যদি সঠিক হয়, তাহলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের স্থান থাকবে না বলে জানান মাহবুব এইচ মজুমদার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here