বুক বিল্ডিংয়ে ‘ইচ্ছেমতো দর প্রস্তাব করতে পারবেন’

0
2240
স্টাফ রিপোর্টার : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা কোম্পানির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। ফলে নিলাম প্রক্রিয়ায় যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ইচ্ছেমতো দরে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিতে পারবেন। গত ৩১ ডিসেম্বর পাবলিক ইস্যু বিধিমালার সংশোধনীতে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের আগের ব্যবস্থাটি বাতিল করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ উদ্যোগের ফলে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিতর্কের অবসান হবে বলে মনে করছেন বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা। আগের বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ছয় ক্যাটাগরির অন্তত ২০টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হতো। তবে আগ্রহী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য তখন নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিল না।

এতে শেয়ারের যৌক্তিক মূল্য পাওয়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে পড়ত। আবার উল্টো চিত্রও দেখা গেছে। কোম্পানি বা প্রভাবশালী ইস্যু ম্যানেজারদের প্রভাবে যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দরে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ হতেও দেখা গেছে।

সংশোধনী অনুসারে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা কোম্পানি প্রথমে রোড শো আয়োজন করবে। এক্ষেত্রে রোড শো অনুষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিন আগে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লিখিতভাবে ও কমপক্ষে পাঁচটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানাবে কোম্পানি। আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে সর্বশেষ তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা ভ্যালুয়েশন রিপোর্টসহ কোম্পানির সব তথ্য খসড়া প্রসপেক্টাস আকারে বিনিয়োগকারীদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে শেয়ারদরের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা যাবে না।

রোড শোর তিন কার্যদিবসের মধ্যে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ জানাতে পারবেন। তাদের এ মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ইস্যুয়ার কোম্পানি অথবা ইস্যু ম্যানেজার খসড়া প্রসপেক্টাস বা রেড হারিং প্রসপেক্টাস চূড়ান্ত করবে। খসড়া প্রসপেক্টটাস ও আইপিও-সংক্রান্ত অন্য সব  তথ্য বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল হবে। দাখিলকৃত প্রসপেক্টাস ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের পর সন্তুষ্ট হলে কমিশন কাট অফ প্রাইস নির্ধারণের জন্য বিডিং বা নিলামের অনুমোদন দেবে।

আগের পদ্ধতিতে নিলাম প্রক্রিয়ায় নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ কম বা বেশি দরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিতে পারতেন যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ বেশি দরে শেয়ারের কাট অফ প্রাইস তথা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ইস্যুমূল্য নির্ধারিত হয়। সর্বশেষ একমি ল্যাবরেটরিজের ক্ষেত্রেও এ চিত্র দেখা গেছে।

তবে বর্তমান ব্যবস্থায় নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি উঠে যাওয়ায় নিলামে কোনো কোম্পানির শেয়ার যেকোনো দরে কেনার প্রস্তাব দিতে পারবেন যোগ্য বিনিয়োগকারীরা। এক্ষেত্রে তাদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ শেয়ার সর্বশেষ যে মূল্যে কেনার প্রস্তাব আসবে, সেটিই হবে কাট অফ প্রাইস। সে দরেই যোগ্য বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বরাদ্দ পাবেন। তবে আইন সংশোধনের ফলে আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারী কাট অফ প্রাইসের ১০ শতাংশ মূল্যে শেয়ার পাবেন।

এদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ও ফিক্সড প্রাইস উভয় পদ্ধতির আইপিওর কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে সর্বশেষ সংশোধনীতে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা সামান্য কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোটা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রাতিষ্ঠানিক কোটার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিতে পারবে। নিলামে অংশগ্রহণকারীরা একবার তাদের প্রস্তাব সংশোধনের সুযোগ পাবে। সেক্ষেত্রে প্রথমবার প্রস্তাবিত দরের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ উপরে বা নিচে দ্বিতীয়বার শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিতে পারবে।

এর পর নিলামের তথ্য, কাট অফ প্রাইস, শেয়ার বরাদ্দ পাওয়া যোগ্য বিনিয়োগকারীদের তালিকা এবং আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ার সংখ্যা ও দর ইত্যাদি তথ্যসহ খসড়া প্রসপেক্টাস চূড়ান্ত করে বিএসইসির নিকট জমা দিতে হবে ইস্যুয়ারকে। এটি নিলাম শেষ হওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই জমা দিতে হবে। এর পর কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে আইপিওর অনুমোদন দিতে পারে।

গত ৩১ ডিসেম্বর পাবলিক ইস্যু বিধিমালা সংশোধনের কারণে অনুমোদন পায়নি এমন ২৮ কোম্পানিকে নতুন করে আইপিও আবেদন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেসব কোম্পানি প্রিমিয়াম চেয়েছে, তাদের বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন করতে বলা হয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবেদন করার নতুন যোগ্যতার বিষয়গুলোও বিবেচনা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অভিহিত মূল্যে শেয়ার বিক্রিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলো ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবে।

আইপিও বিধিমালার সংশোধনের আগে মোট ৩২ কোম্পানির আইপিও আবেদন কমিশনের বিবেচনাধীন ছিল। এর মধ্যে প্রিমিয়ামে (অভিহিত মূল্যের তুলনায় বেশি দরে) শেয়ার বিক্রি করতে চেয়েছিল ১৮টি কোম্পানি। বাকিগুলো অভিহিত মূল্যে শেয়ার বিক্রির আবেদন করেছিল।

তবে বিএসইসির সূত্র জানায়, পুরনো বিধিমালার আওতায় যাচাই-বাছাই শেষে আইপিও আবেদন এরই মধ্যে বিবেচনার জন্য কমিশনে উত্থাপিত হওয়ায় চারটি কোম্পানিকে নতুন করে আবেদন করতে হচ্ছে না। এ কারণে গত ৫ জানুয়ারি প্রিমিয়ামে আইপিও অনুমোদন পেয়েছে এনার্জি প্যাক পাওয়ার জেনারেশন। কোম্পানিটিকে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৫ টাকা দরে শেয়ার বিক্রির অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here