বীমা প্রতিনিধিদের আয়ে ভ্যাট বসাবে এনবিআর

0
425

ডেস্ক রিপোর্ট : এখন থেকে জীবন বীমা প্রতিনিধিদের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে এমনটি বলছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ বিষয়ে একটি চিঠি সম্প্রতি দেশের সব জীবন বীমা কোম্পানি ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনে (বিআইএ) পাঠিয়েছে সংস্থাটি। খবর বণিক বার্তার।

জীবন বীমা কোম্পানিতে পাঠানো এনবিআরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জীবন বীমা কোম্পানির এজেন্টদের তাদের প্রদানকৃত কমিশনের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে দিতে হবে কেননা বীমা নীতি ২০১০-এ সাধারণ বীমা এজেন্ট ও জীবন বীমা এজেন্টদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। তাই উেস করযোগ্য সেবার তালিকা থেকে এজেন্টদের পরিষেবার ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট কর অব্যাহতি নেই, জীবন বীমা কোম্পানি কর্তৃক প্রদানকৃত কমিশন ‘বিবিধ সেবা’-এর আওতার মধ্যে পড়ে এবং তা ১৫ শতাংশ উেস করযোগ্য।

এনবিআরের এমন চিঠিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জীবন বীমা কোম্পানি থেকে নির্দিষ্ট বেতনের পরিবর্তে এজেন্সি কমিশন হচ্ছে একমাত্র আয়ের উপায়, যা এজেন্টরা পেয়ে থাকেন। যা তাদের কাছে বেতনের সমতুল্য। প্রদত্ত বেতন ভ্যাটের আওতাভুক্ত বিষয় নয়। ফলে এজেন্সি কমিশন ভ্যাটের আওতাভুক্ত করা কোনোভাবেই উচিত হবে না। এছাড়া সরকারের এমন সিদ্ধান্তে জীবন বীমা ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এতে কোম্পানির মুনাফাও আশঙ্কাজনক হারে কমে আসবে।

এদিকে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ মোতাবেক পলিসিগ্রহীতার মৃত্যু ব্যতীত পলিসিগ্রহীতাদের যেকোনো ধরনের জীবন বীমা পলিসিতে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের ওপর ৫ শতাংশ উেস কর কর্তন করার বিধান রয়েছে, যা ২০১৪ সাল থেকে কার্যকর করা হয়েছে। উেস কর আরোপের ফলে এরই মধ্যে বাংলাদেশে জীবন বীমা ব্যবসা বৃদ্ধির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে রাষ্ট্র খাতের জীবন বীমা করপোরেশন (জেবিসি), বিদেশী মেটলাইফ আলিকো এবং ২৯টি বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে। তবে ব্যবসা করছে মূলত জেবিসি, আলিকো ও ১৬টি বেসরকারি কোম্পানি। অন্য ১৩টি ২০১৩ সালে নিবন্ধন পেয়ে সবেমাত্র ব্যবসা শুরু করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here