বীমা পলিসি বিক্রি করতে আসছে নতুন নীতিমালা

0
948

সিনিয়র রিপোর্টার : দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব চ্যানেলে বীমা পলিসি বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বীমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স পদ্ধতিতে বীমা পলিসি বিক্রির অনুমোদন চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদনও জানিয়েছে কিছু ব্যাংক। দীর্ঘদিন বিষয়টি ঝুলে থাকলেও সম্প্রতি ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে আপত্তি নেই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষেরও (আইডিআরএ)।

জানা গেছে, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলোর যোগ্যতা নির্ধারণ করে এ-সংক্রান্ত নতুন একটি নীতিমালা পৃথকভাবে তৈরি করবে দুই নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, যেখানে থাকবে বেশকিছু শর্ত। তবে শর্তগুলো যাতে একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয় তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইডিআরএ।

এ বিষয়ে আইডিআরএ সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লা বলেন, অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এর পক্ষে ছিলাম। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত নীতিমালা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বীমা পলিসি বিক্রি সম্ভব হবে।

জানা যায়, এর আগে ভারতের আদলে ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স চ্যানেলের মাধ্যমে বীমা পলিসি বিক্রির অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর চিঠিও দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি)। এবিবির চিঠিতে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে ব্যাংক এবং বীমা যৌথভাবে বীমা পলিসি বিক্রি করে আসছে— যা ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স নামে পরিচিত।

প্রতিবেশী দেশ ভারতেও লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ১০ শতাংশ আসে ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স চ্যানেলের মাধ্যমে। বাংলাদেশেও বিদ্যমান আইনের মধ্যে থেকে এটা করা সম্ভব। জাতীয় বীমা নীতিতেও এ বিষয়ে বলা হয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবিবির পক্ষ থেকে।

জানা যায়, ব্যাঙ্কাস্যুরেন্স কার্যকর হলে খাতটিতে অনিয়ন্ত্রিত কমিশন বাণিজ্য বন্ধের পাশাপাশি জীবন বীমার প্রসার বাড়বে। এ প্রক্রিয়ায় যেকোনো জীবন বীমা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বীমা পলিসি বিক্রি করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কোনো কোম্পানি তার ব্যবসার আকার অনুযায়ী একাধিক করপোরেট এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবে। আইডিআরএ নির্ধারিত কমিশনের হার মেনে পলিসি বিক্রি করবে সংশ্লিষ্ট করপোরেট এজেন্ট।

২০১১ সালের জানুয়ারিতে আইডিআরএ গঠিত হওয়ার পরেই এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশকিছু নীতিমালা প্রণয়ন করে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম কমিশন নিয়ন্ত্রণ। সংস্থাটি জীবন বীমায় তিন স্তরে কমিশন হার ৩২ খেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করে। তবে তা না মেনে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি কমিশন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোনো কোনো জীবন বীমা কোম্পানি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিচ্ছে। একই সঙ্গে অস্তিত্বহীন এজেন্টের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ। জীবন বীমা খাতের এজেন্টদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে আইডিআরএ।

জানা যায়,  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জীবন বীমা খাতে তামাদি পলিসির হার সাধারণত ২০ শতাংশে সীমিত থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে তামাদি পলিসির হার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মোট পলিসির ৮০ শতাংশেরও বেশি। কোনো কোনো কোম্পানিতে তামাদির পরিমাণ নতুন পলিসি বিক্রির চেয়েও বেশি।

নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছে দাখিল করা বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানির ব্যবসায়িক তথ্য পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে। মূলত মাঠপর্যায়ে ব্যক্তি বীমা প্রতিনিধিদের অদক্ষতা, অসাধু প্রতিযোগিতা ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছে আইডিআরএ। মূলত বীমা খাতের বিদ্যমান এসব সমস্যা সমাধানে করপোরেট এজেন্ট নিয়োগ দিতে চায় আইডিআরএ।

এ বিষয়ে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জালালুল আজীম বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি বীমার করপোরেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তাহলে খাতটির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় বীমা খাতের কমিশন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। এতে কোম্পানির ব্যয় অনেক কমে আসবে বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, ভারতে ব্যাঙ্কাস্যুরেন্সের মাধ্যমে বীমা পলিসি বিক্রির পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের বেশকিছু ব্যাংক একাধিক বীমা কোম্পানির পলিসি বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে ব্যাংকগুলো শুধুমাত্র একটি জীবন বীমা, একটি সাধারণ বীমা ও একটি স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানির পলিসি বিক্রি করতে পারত।

বর্তমানে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অধিকাংশ প্রধান ব্যাংক বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই), ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ব্যাংক অব বরোদা, কানাড়া ব্যাংক, ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, অন্ধ্র ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক ও আইডিবিআই ব্যাংক।

পেছনের খবর : চূড়ান্ত হচ্ছে বীমা কোম্পানির বিনিয়োগবিধি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here