বীমা কোম্পানি এলিকো’কে দেশীয় নীতিমালায় আনার উদ্যোগ

0
1653

Alico-1এস বি  ডেস্ক : দেশে একমাত্র বহুজাতিক বীমা কোম্পানি মেটলাইফ এলিকোকে দেশীয় নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এ বিষয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। নীতিমালা মেনে পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে সম্মত হয়েছে কোম্পানিটি। শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে জটিলতা কীভাবে কাটানো যায়, তা খতিয়ে দেখছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

যৌথ বিনিয়োগে বীমা কোম্পানি গঠনে বিদেশী উদ্যোক্তাদের মালিকানা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশে সীমিত করে নতুন নীতিমালা হয়েছে। অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে মেটলাইফ এলিকোকে এ নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্তও পূরণ করেনি জীবন বীমা কোম্পানিটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মূল কোম্পানি মেটলাইফের (মেট্রোপলিটন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি) শাখা হিসেবে বাংলাদেশে ব্যবসা করায় এ কোম্পানির শেয়ারবাজারে যোগ দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া বীমা আইনে জীবন বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শুরু থেকেই পরিশোধিত মূলধন ছাড়াই ব্যবসা করছে মেটলাইফ এলিকো।
এভাবে দেশীয় আইন ও নীতিমালার বাইরে রেখে কোম্পানিটিকে আর ব্যবসা চালিয়ে নিতে দিতে চায় না আইডিআরএ।
দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলো অন্যায্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে, লভ্যাংশ চলে যাচ্ছে দেশ থেকে। দেশের জীবন বীমা খাতের ৪০ শতাংশই এ কোম্পানির দখলে। তবে শতভাগ বিদেশী মালিকানা থাকায় নিজেদের লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেয়া এক চিঠিতে আইডিআরএ উল্লেখ করে, শুধু ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ৪৩৫ কোটি ৯ লাখ টাকা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে কোম্পানিটি আর ২০১০ সালে নিয়েছে ১৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, মেটলাইফ এলিকোকে কীভাবে দেশীয় নীতিমালার মধ্যে আনা যায়, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কোম্পানিটির সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসেছি। পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতা পূরণে সম্মতি জানিয়েছে তারা। কিন্তু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে। কারণ বিদেশী কোম্পানির শাখা হিসেবে এদেশে নিবন্ধিত হওয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ নেই। তবে কীভাবে এ সমস্যা দূর করা যায় তা আমরা খতিয়ে দেখছি।
বাংলাদেশে কোম্পানিটির কান্ট্রি ডিরেক্টর নুরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইডিআরএর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। এর থেকে বেশি আর কিছু বলতে চাই না। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন, কোম্পানিটি দেশের বীমা খাতে ব্যবসার শীর্ষে রয়েছে।
শাখা অফিস হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে তারা কীভাবে এত পরিমাণ ব্যবসা করে, তা খতিয়ে দেখার বিষয়। তাই শুধু পরিশোধিত মূলধনই নয়, বরং কোম্পানিটিতে যাতে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে আইডিআরএকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here