বীমা ও প্রকৌশল খাত লোকসানে

0
424

সিনিয়র রিপোর্টার : অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়কে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে ২৬৫ পয়েন্ট হারিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক।

যদিও অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনো শেয়ার বিক্রি করতে হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এর প্রভাব শেয়ারবাজারে তেমন দেখা যায়নি। চলতি বছর বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে। তবে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি লোকসান করেছেন সেবা, জীবন বীমা ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে বুধবার পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে সেবা ও নির্মাণ খাতে। চলতি বছর এ খাতের চার কোম্পানির শেয়ারের দরই কমেছে। রাইট শেয়ার ইস্যু করায় এ খাতের সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট কোম্পানির শেয়ারদর সমন্বয় হয়েছে।

এছাড়া শমরিতা হাসপাতাল, ইস্টার্ন হাউজিং ও সাইফ পাওয়ারটেকসহ প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারই দর হারিয়েছে। চলতি বছর এ খাতের কোম্পানিগুলো গড়ে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে।

২০১৫ সাল থেকেই জীবন বীমা খাত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ খাতের অধিকাংশ কোম্পানির তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। তবে নানা ধরনের অনিয়ম ও কয়েকটি কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধের কারণে জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছর এ খাতের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১২ শতাংশ লোকসান হয়েছে।

ব্যবসায় আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে গত বছর প্রকৌশল খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে দেখা যায়। চলতি বছরের শুরুতেও এ ধারা অব্যাহত থাকে। তবে দুই মাস ধরেই খাতটির বাজার মূলধন কমতে দেখা যাচ্ছে। ইস্পাত শিল্প খাতের সব কোম্পানির শেয়ারদর সমন্বয় হচ্ছে।

তবে চলতি বছর পুরো খাতটিকে প্রভাবিত করেছে সিঙ্গার বাংলাদেশের লভ্যাংশ ঘোষণা। প্রতি বছর উচ্চ হারে লভ্যাংশ দিলেও ২০১৫ সালের জন্য ৬৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণায় শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এছাড়া আফতাব অটো, বিডি ল্যাম্পস, গোল্ডেনসনসহ অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারের দরহ্রাসে চলতি বছর পুরো খাতটির বাজার মূলধন গড়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এছাড়া প্রায় একই হারে দর হারিয়েছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। এর বাইরে ট্যানারি, আইটি, সাধারণ বীমা ও সিমেন্ট খাত গড়ে ৫ থেকে ৮ শতাংশ দর হারিয়েছে।

চলতি বছর বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় ডিএসইর বাজার মূলধনও কমেছে। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানির বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, যা গতকাল লেনদেন শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৬১৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

অধিকাংশ খাত দর হারালেও বাজার মূলধন বেড়েছে বিবিধ, জ্বালানি ও টেলিযোগাযোগ খাতের। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত বিবিধ খাতের কোম্পানি আমান ফিড ও বার্জার পেইন্টের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে পুরো খাতটির বাজার মূলধন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া জ্বালানি খাতের সরকারি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ায় পুরো খাতটিই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। চলতি বছর পুরো খাতটির বাজার মূলধন গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের দুই কোম্পানির শেয়ারদর গড়ে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে টানা তৃতীয় কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। এতে গতকালও প্রায় সব খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। তবে একদিনের ব্যবধানে গতকাল সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন বেড়েছে সিরামিক খাতে।

এ খাতের প্রভাবশালী কোম্পানি আরএকে সিরামিকের বাণিজ্যিক উত্পাদন বৃদ্ধির সংবাদে কোম্পানির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মূলত এ কারণেই গতকাল পুরো সিরামিক খাতটির বাজার মূলধন ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, সিমেন্ট, ভ্রমণ ও অবকাশ, সেবা, প্রকৌশল ও ব্যাংকের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বুধবার লেনদেন হওয়া ৬১ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩৬৪ দশমিক ৩১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ সূচক ছিল ৪ হাজার ৬২৯ পয়েন্টে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here