বিবিএস গ্রুপের তৃতীয় কোম্পানি নাহি অ্যালুমিনিয়াম

1
7731

সিনিয়র রিপোর্টার : বিবিএস গ্রুপের কোম্পানি নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট ২৪ সেপ্টেম্বর, রোববার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) চাঁদাগ্রহণ শুরু করেছে। চলবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত।গ্রুপের আরো দুটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ২০১৩ সালে বিবিএস (BBS) এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে তালিকাভুক্ত হয় বিবিএস ক্যবলস (BBSCABLES) লিমিটেড।

বিবিএস ক্যবলস লিমিটেড ৩১ জুলাই পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করলে ‘শেয়ার কারসাজি নিয়ে বিতর্ক’ শেষ না হতেই নাহি অ্যালুমিনিয়াম পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করছে। উভয় কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে বাংকো ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেডের ইস্যু ব্যবস্তাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বাংকো।

বিবিএস গ্রুপের মূল কোম্পানি ২০১৩ সালে বিবিএস (BBS) নামে প্রথম পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এরপরে চলতি বছরের জুলাই মাসে তালিকাভুক্ত হয় বিবিএস ক্যবলস (BBSCABLES)। নতুন রুপে আসছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম। একই গ্রুপের মোট তিনটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। অপ্রকাশিত তথ্য হলেও যা পুঁজিবাজারের জন্য বিরল ঘটনা।

তবে ভিন্নতা একটি রয়েছে তা হলো- নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের অফিস নেয়া হয়েছে রাজধানীর বনানীতে। তবে গ্রুপের অন্য দুটি কোম্পানি বিবিএস এবং বিবিএস ক্যাবলসের অফিস রয়েছে একই ভবনের একস্থানে। কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক একই ব্যক্তি। (ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো)

নাহি অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা এবং অফিস ঠিকানা প্রকাশ করা হলো

ডিএসই থেকে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, বিবিএস ক্যাবলস ৩১ জুলাই শেয়ার লেনদেন ডিএসইতে ৫১ টাকায় শুরু করে। এরপরে তা হাওয়ায় ভাসতে থাকে দর।  প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি ‘এন’ ক্যাটগরীতে লেনদেন শুরুর পরে দুপুর ১২:২৩ মিনিটে দর হয়েছে ৮৭ টাকা।

শেয়ারদর নিয়ে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নোমান হাওলাদারের পরিবারে পক্ষ থেকে কারসাজি শুরু হয়। তালিকাভুক্তির মাত্র ১৪ কার্যদিবসে বিবিএস কেবলসের ১০ টাকা দরের শেয়ার ১৬ গুণ বেড়ে ১৬০ টাকা হয়।

কারসাজির পেছনে আছেন কোম্পানিটির এমডির বাবা আবদুল হান্নান হাওলাদার। উচ্চ মূল্যে তার শেয়ার কেনাবেচার তথ্য মিলেছে। তিনি কোম্পানিটির প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডার। তার কাছে রয়েছে মোট শেয়ারের ২ শতাংশ বা ২০ লাখ শেয়ার।

কারসাজি অনুসন্ধানে বিএসইসির উপপরিচালক মো. শামসুর রহমানকে প্রধান করে সহকারী পরিচালক মো. রকিবুর রহমান ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আরিফুর রহমান চৌধুরীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নাহি অ্যালুমিনিয়ামকে জুলাই মাসে অভিহিত মূল্যে শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে মোট দেড় কোটি শেয়ার ইস্যু করে ১৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করতে পারবে। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আইপিও থেকে পাওয়া অর্থ কিছু ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি কারখানায় নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ভবন নির্মাণে ব্যবহার করবে।

প্রসপেক্টাস থেকে নেয়া অংশ

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে নাহি অ্যালুমিনিয়ামের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ২ টাকা ৩৩ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১২ টাকা ৭৮ পয়সা। (প্রোসপেক্টাস দেখতে ক্লিক করুন)

বিবিএস গ্রুপের কোম্পানি নাহি অ্যালুমিনিয়াম বিভিন্ন ধরনের অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল তৈরি করে। গাজীপুরের শ্রীপুরে তাদের কারখানাটির আয়তন ৩০ হাজার বর্গমিটার। প্রকল্পের মূল্য ৬০ কোটি টাকা। নাহি অ্যালুমিনিয়ামের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার দায়িত্বে রয়েছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম জোহা জামান কবির রশিদ অ্যান্ড কোম্পানি।

প্রসপেক্টাস অনুসারে, ২০১৬ হিসাব বছরে নাহি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রি ছিল ৪০ কোটি ৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, আগের বছর যা ছিল ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩৩ কোটি টাকা, আইপিওর পর যা ৪৮ কোটিতে উন্নীত হবে।

২০১০ সালে প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নাহি অ্যালুমিনিয়াম ২০১৪ সালের ১ মার্চ বাণিজ্যিক উত্পাদনে যায়। একই বছর ২৪ জুলাই তারা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়।

২০১০ সালে প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নাহি অ্যালুমিনিয়াম ২০১৪ সালের ১ মার্চ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। একই বছর ২৪ জুলাই তারা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর হয়। কোম্পানির আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, উৎপাদন শুরুর পর গত তিন বছরে নাহি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালে কোম্পানির নিট বিক্রি ছিল ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে বেড়ে ২০১৬ সালে নিট বিক্রি ৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

ধারাবাহিক বিক্রয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি তিন বছরে করপরবর্তী মুনাফায়ও প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা করপরবর্তী মুনাফা থেকে ২০১৫ সালে তা ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তিন বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১৭৯৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

সর্বশেষ ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের জুলাই-মার্চ সময়ে তিন প্রান্তিকে ৩৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম। এ সময়ে করপরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১৬ পয়সা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here