বিনিয়োগে ঝড় উঠাতে ২৭ জানুয়ারি আসছে নতুন মুদ্রানীতি

0
1115

স্টাফ রিপোর্টার :বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ২৭ জানুয়ারি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আনুষ্ঠানিকভাবে মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বলে ব্যাংকের গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামান  জানিয়েছেন। বিনিয়োগ এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে মুদ্রানীতির কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যে মুদ্রানীতির বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণের জন্য অর্থনীতিবিদ, তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী, ব্যবসায়ী নেতা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়েছে।এর আগে গত বছরের ২৫ জুলাই গড় মূল্যস্ফীতি (পুরনো ভিত্তি বছর অনুসারে) সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ মুদ্রানীতির লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বর ২০১৩ সালের মধ্যে সঞ্চিত মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্যাপকমুদ্রার প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা। এ ছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেটে ঘোষিত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ ২৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়টিও মুদ্রানীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে আর্থিক খাতের অধিকাংশ লক্ষ্যই অর্জন না হওয়ায় নতুন সরকারের প্রথম মুদ্রানীতি ‘সম্প্রসারণমুখী’ হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা।তারা বলছেন, সম্প্রসারিত মুদ্রানীতি না হলে অর্থবছরের শেষ বা দ্বিতীয়ার্ধের লক্ষ্যগুলোও অধরা থেকে যাবে। ফলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না।আসন্ন মুদ্রানীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা না দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাসান জামান বলেন, “অস্থির পরিস্থিতির কারণে এবার সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগের মুদ্রানীতি প্রণয়নের সময় যাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে ই-মেইলে মতামত নেয়া হচ্ছে।”তবে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়- এমন মুদ্রানীতিই এখন প্রয়োজন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যে মুদ্রানীতি দিয়ে আসছে তা গতানুগতিক, বলা যায় একধরনের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি।“ওইসব মুদ্রানীতিতে মূল মনোযোগ ছিল মূল্যস্ফীতি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী মুদ্রানীতিকে অবশ্যই এ ধারা থেকে বের করে এনে কিছুটা হলেও সঙ্কুলানমুখী বা সম্প্রসারণমুখী করতে হবে।”বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে গতি আনতে এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতেই এমন মুদ্রানীতি দরকার বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মুদ্রা সরবরাহ ও আর্থিক খাতে এমন নীতি গ্রহণ, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হয়।সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে এমন লক্ষ্য ঠিক করা হলেও ডিসেম্বর শেষে দেখা গেছে, এর কোনোটাই অর্জিত হয়নি। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, কমেছে বিনিয়োগ।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০১৩ সালে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ২২ শতাংশ।আর পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নভেম্বরের ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ হয়েছে।চলতি অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে রাখার পরিকল্পনা করা হলেও গেল বছর এই হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

532489_658665410828349_1581707626_n

গত ডিসেম্বর মাসে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৩৩.৭ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতে সাড়ে ১৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়। এটাকে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ মুদ্রানীতি হিসেবে অভিহিত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমিয়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মেয়াদের জন্য গত ডিসেম্বর মাসে  মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব মূখ্য নীতি সুদহার অর্থাৎ রেপো ও বিশেষ রেপো সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যা বর্তমানে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেসিস পয়েন্ট।আগে প্রতিবছর একবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও ২০০৬ সাল থেকে অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here