বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের

0
345
এস বি ডেস্ক : বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই) বলছে, বিশ্বমন্দা ও সরকারের মেয়াদ শেষের বছর হওয়ায় দেশী-বিদেশী সব বিনিয়োগে ব্যবসায়ীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা বলছেন, অবকাঠামো সুবিধার অনিশ্চয়তার কারণেই স্থানীয়দের বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের হালনাগাদ তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ করে বিনিয়োগ বোর্ড। এতে দেখা যায়, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে বিনিয়োগ নিবন্ধন বেশ কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে বিনিয়োগ বোর্ডে ১৪৬টি প্রকল্পে ৮৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩১ হাজার ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়। আর মে মাসে ১০০টি প্রকল্পে নিবন্ধিত হয় ৪৫ কোটি ৭৩ লাখ ৩ হাজার ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব। এ হিসাবে এক মাসে নিবন্ধন কমেছে ৪৬ শতাংশ।
এর আগে ২০০৯ সালে এক হাজার ৩৯৫টি প্রকল্পে ২৫৮ কোটি ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত হয়। ২০১০ সালে নিবন্ধিত হয় এক হাজার ৬০০টি প্রকল্প। এতে বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল ৬২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫ হাজার ডলার। এছাড়া ২০১১ সালে ১ হাজার ৬৭১টি স্থানীয় প্রকল্প বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত হয়। ওই বছর মোট বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল ৬৯৭ কোটি ১২ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। ২০১২ সালে প্রকল্পের সংখ্যা সামান্য কমে হয় এক হাজার ৬৫৫টি। এগুলোয় প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬০৮ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
বিনিয়োগ বোর্ড সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনে উল্লেখযোগ্য খাত হলো— কৃষি, খাদ্য, বস্ত্র ও পোশাক, প্রিন্টিং ও পাবলিকেশন, চামড়া ও রাবার, কেমিক্যাল, গ্লাস ও সিরামিক, প্রকৌশল ও সেবা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব নিবন্ধিত হয় বস্ত্র ও পোশাক খাতে। কিন্তু এ খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেকেই বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন ও কারখানায় যন্ত্রপাতি সংস্থাপন করে প্রকল্প চালু করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগের অনিশ্চয়তায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। অবকাঠামোগত এসব সমস্যার কারণেও স্থানীয় উদ্যোক্তারা দেশে বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ মনে করেন- স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব কমে যাওয়া মোটেও ইতিবাচক নয়। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারি অসহযোগিতার কারণে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সব বিনিয়োগ প্রস্তাব যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।
এদিকে, অবকাঠামোগত অনিশ্চয়তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য আহমেদ নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারের অসহযোগিতা নয়, সব ধরনের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বিশ্বমন্দা। এছাড়া বরাবরই সরকারের শেষ বছরে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে খুব একটা আগ্রহী থাকেন না।
তবে বিনিয়োগে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আগ্রহে ভাটা পড়ায় নেতিবাচক কিছু দেখছেন না বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর বিনিয়োগ বাড়তে হবে, এটা ঠিক নয়। কারণ বিনিয়োগের আগ্রহ যেমন প্রয়োজন, তেমনি এরই মধ্যে নিবন্ধিত বিনিয়োগের বাস্তবায়নও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া অপরিকল্পিত বিনিয়োগকে নিরুত্সাহিত করার প্রয়োজন রয়েছে। কাজেই স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন— এমন মন্তব্য করা সঠিক হবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক কালে ব্যাংকিং বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগকারীদের আগের তুলনায় অনেক সতর্ক করে তুলেছে। আমি মনে করি, ব্যবসায়ীরা নিত্যনতুন বিনিয়োগের চেয়ে টেকসই বিনিয়োগ করার দিকেই ঝুঁকতে শুরু করেছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here