শ্যামল রায়: তামান্না প্রিয়ান কাজ করছেন ইবিএল সিকিউরিটিজের ট্রেডিং টিমে। বিবিএ করেছেন ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিংয়ে। সঙ্গত কারনেই দেশের অর্থনীতি ও পুজিবাজার তার চর্চার বিষয়। সম্পরতি স্টক বাংলাদেশের সাথে এক সাক্ষাৎকারে পুজিবাজার নিয়ে জানালেন অনেক কথা।

স্টক বাংলাদেশ: এই মুহুর্তের বাজার পরিস্থিতি কেমন?

তামান্না প্রিয়ান: আমরা বলতে পারি মার্কেট এই মুহুর্তে অনেক ইমপ্রুভ হয়েছে। ইনডেক্স পজিটিভলি বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা আস্থায় ফিরছেন। তারা অনেক দেখে শুনে বেচা কেনা করতে পারছেন। সুবিধামত প্রফিটও করছেন। এই মুহুর্তে পুঁজিবাজার বেশ স্থিতিশীল বলা যায়।

স্টক বাংলাদেশ: সামনের দিনগুলোতে কি রকম হতে পারে মার্কেট?  আপনার প্রেডিকশন কি বলে?

তামান্না প্রিয়ান: আসলে পুজিবাজারে প্রেডিক্ট করে কিছু বলা যায় না। এখানে অবশ্যম্ভাবী বলে কোন কিছু নেই। নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। প্রতিমুহুর্তেই পরিস্থিতি বদলে যায়। তারপরও বিভিন্ন এ্যানালাইসিস এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় একটা কথা বলাই যায় সামনে বাজারে আরও ভাল ভলিউম হবে।

স্টক বাংলাদেশ: অনেকেই বলে থাকেন নির্বাচনের আগে মার্কেটে বিগ বাবল হয়। এরপর বিশাল ধ্বস। শেয়ার বাজার বিশ্লেষক হিসেবে আপনি কি বলেন?

তামান্না প্রিয়ান: হয়ত এতদিনের ট্রেন্ডটা ছিল এরকম তাই লোকজন এটা ভেবে থাকেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। সরকারের কঠোর নজরদারি আছে। কাজেই মার্কেটে বিশাল ধ্বস হওয়ার তেমন কারন দেখি না। অনেকেই আছেন যারা সব সময় এধরনের কিছু গুজব ছড়িয়ে মার্কেটের বারটা বাজিয়ে দেয়। এধরনের রিউমার থেকে বিনিয়োগকারীদের মুক্ত থাকতে হবে।

স্টক বাংলাদেশ: দেশের ইকনোমির জন্য পুজিবাজার কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

তামান্না প্রিয়ান: যেকোন দেশের একটি শক্তিশালী ইকনোমির জন্য পুজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুজিবাজার ব্যতিরেকে দেশের শক্তিশালী ইকনোমি কল্পনা করা যায় না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর দিকে থাকালেই বুঝতে পারব তাদের পুজিবাজার একট শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। আমাদের ও উচিত পুজিবাজার কে অনেক গুরুত্ব দেয়া। এটাকে সঠিকভাবে রান করলে ইকনোমি গ্রোথ বেড়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

স্টক বাংলাদেশ: দেখতে দেখতে আমাদের মার্কেটও তো অনেকদিন হতে চলল। তারপরও এখানে রিউমার, গ্যাম্বলিং বিষয়গুলো ঘুরে ফিরে আসে কেন?

তামান্না প্রিয়ান: এটার মূল কারণ অজ্ঞতা। আসলে বিনিয়োগকারীরা অনেক কিছু জানেন শুনেন বুঝেন, কিন্তু তারপরও কেনার সময় তারা রিউমারটাকেই প্রাধান্য দেন। এজন্য বারবার ঠকতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। আর এখন চতুর্দিকে বাজার সচেতন মুলক অনেক কথাবার্তা, ক্যাম্পেইন শোনা যায়। কিন্তু তারপরও সচেতন হয় না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

স্টক বাংলাদেশ: এটা থেকে বিনিয়োগকারীদের মুক্তির উপায় কি?

তামান্না প্রিয়ান: নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। যে যাই বলুক না কেন বিবেচনার বাহিরে গিয়ে স্টক কেনা বেচা করা যাবে না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই ইন্ডিভিজুয়ালী একটা রুলস ফলো করতে হবে। সবার সব কথা শুনে শেয়ার বেচা-কেনা করলে লসে পড়তে হবে। এজন্য নলেজ ডেভেলপ করতে হবে।

স্টক বাংলাদেশ: একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর একটি স্টক চুজ করার আগে কি কি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্টক চূজ করতে হবে?

তামান্না প্রিয়ান: শেয়ার বাজারে একসাথে অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। একজন বিনিয়োগকারী যত ইনফরমেটিভ হবেন যতবেশী তথ্য তার জানা থাকবে তিনি তত কনফিডেন্সের সাথে বিনিয়োগ করতে পারবেন। লাভ ঘরে তুলতে পারবেন। তারপও প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে কোম্পানির গ্রুপ, ইপিএস, ন্যাভ, পিই রেশিও, সেক্টর সর্বোপরি স্পন্সরকারা এটা দেখতে হবে। তারপরও ইনডেক্স কোন দিকে যাচ্ছে এবং প্রাইস লেভেল দেখে তারপর একটি শেয়ার চুজ করতে হবে।

স্টক বাংলাদেশ: অনেকেই বলে থাকেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সব সময় ক্ষতির সম্মুক্ষিন হন। আপনি কি বলবেন?

তামান্না প্রিয়ান: ভূল পারসেপশন। তারা হয়ত হাইরেটে কেনে । না বুঝে বিনিয়োগ করা কখনোই উচিৎ নয়। প্রয়োজনে পরামর্শ নিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম এক্ষেত্রে প্রচুর হেল্প করবে বিনিয়োগকারীদের ।

স্টক বাংলাদেশ: বিসেক, ডিএসই, সিএইর ভূমিকা নিয়ে আপনার কোন অভিমত?

তামান্না প্রিয়ান: তারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জায়গা থেকে ভাল করছে। এই মুহুর্তে সরকারেরও সাপোর্ট রয়েছে। আমরা আশা করব আগামী দিনগুলোতে সব মহলের সহযোগিতা এবং সরকারের বিভিন্নমুখী পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল বাজার পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here