বিদ্যুৎ-জ্বালানী খাতে ২২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

0
226

সিনিয়র রিপোর্টার : বাজেটে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত বছরের চেয়ে এবার ৪ হাজার ৪২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য ২২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিগত অর্থবছরে এই খাতের বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

তবে সংশোধিত বাজেটের পর এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে কয়লা ভিত্তিক, পারমানবিক, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, এএনজি গ্যাস আমদানীসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আলোকপাত করেন।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’- স্লোগানকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ সংযোগের পরিধি বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে এখনকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়ার্ট থেকে ২৪ হাজার মেগাওয়ার্টে উন্নীতর করার লক্ষে কাজ চলছে।

আগে আমরা লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিলাম ২০২৪ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবো। কিন্তু এখন ২০২০ সালেই ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে যাচ্ছে। ৯ বছরে সরকারের চেষ্টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে ১১৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণ বেড়ে এখন ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে এসে দাঁড়িয়েছে।

সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াট উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে। গত ৯ বছরে ২ হাজার ৬২২ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। সিস্টেম লস ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থমন্ত্রী বিদ্যুৎ সেক্টরের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। উৎপাদন ক্ষমতা যথাক্রমে ২০৩১ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২৯৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে ১৫ হাজার ২০৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

এছাড়া ৪ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতে আরও ২২ হাজার ৫২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ চলতি অর্থবছরে শেষ হবে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও অবহিত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, মাতারবাড়িতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, পটুয়াখালীর পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে।

মহেশখালীতে ১০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন খাতে দেশি ও বিদেশি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো সবই মেগা প্রকল্প। এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বনায়নসহ ঠান্ডা পানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণীয় বর্জ্য নিঃসরণ ও নিয়ন্ত্রণে সর্বাধুনিক ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ভেড়ামারা-বহরমপুর লাইন এবং উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ত্রিদেশীয় সমঝোতা চুক্তি সই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া নেপাল, মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে বলেন, দেশের ভেতরের অনাবিস্কৃত গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বাপেক্স এর জনবল, কারিগড়ি ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২০২১ সালেল মদ্রে ১০৮টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়ে বাপেক্স কাজ করছে।

এছাড়া জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড এর দৈনিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে ৪৫ লাখ মেট্রিকটনে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা এলপিজির মাধ্যমে প্রস্থিাপন করার জন্য বিভিন্ন কোম্পানীকে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৬টি এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি ও মজুদের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এলএনজি আমাদানির লক্ষ্যে মহেশখালিতে একটি াসমান সংরক্ষনাগার ও পুন:গ্যাসায়ন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। আরো একটি ইউনিট শীঘ্রই স্থাপন করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের জুন মাস থেকে ৫০০ এমএমসিএফডি এবং অক্টোবর মাস থেকে আরো ৫০০ এমএমসিএফডি সমতুল্যে এলএনজি পাইপ লাইনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া পর্যায়ক্রমে কক্সবাজারের মহেষখালি এবং পটুয়াখালির পায়রাতে দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের য়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here