বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে পাওয়ার চায়নার সঙ্গে বিপুল বিনিয়োগের চুক্তি

0
896
জিসিএমের পক্ষে মো. বদরুজ্জামান ও মো. ফিরোজ জামান এবং পাওয়ার চায়না প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মি. জিয়ং লি জিন ও মি. পান ডেং উ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন

সিনিয়র রিপোর্টার : জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না দিনাজপুরে দুই হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে। এতে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে উভয় প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ভেঞ্চার ও ইপিসি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

অনুষ্ঠানে জিসিএমের পক্ষে মো. বদরুজ্জামান ও মো. ফিরোজ জামান এবং পাওয়ার চায়না প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মি. জিয়ং লি জিন ও মি. পান ডেং উ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় জিসিএমের নির্বাহী চেয়ারম্যান দাতুক মাইকেল ট্যাং পিজেএন, দীপন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রাশেদ মাহমুদ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস খান, পাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মি. ডিং ঝেং গাউ, চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মি. লিন ওয়েই কিয়াং এবং পাওয়ার চায়না ইউরেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ঝু জিয়াং লং উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি জিসিএম রিসোর্সেসের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। প্রকল্পে প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এই বিনিয়োগের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যয়ের সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি সরকারের জ্বালানি মাস্টারপ্ল্যান এবং নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রকল্পে দেশের কয়লা সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পে সর্বাধুনিক আলট্রা সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। উচ্চ-জ্বালানি দক্ষতার কারণে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কয়লা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। দূষণ নির্গমন নিম্নতম পর্যায়ে থাকবে এবং পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে উন্মুক্ত খনির কয়লা ব্যবহার করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খনির কারিগরি সমীক্ষা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে প্রস্তাবিত আমদানিনির্ভর কয়লা দীর্ঘ পথ বহনের প্রয়োজন হবে না। স্থানীয় কয়লা দিয়েই প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জিসিএমের জেনারেল ম্যানেজার (এনভায়রনমেন্ট এন্ড কমিউনিটি) এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মোল্লাহ আমজাদ হোসেন তার বক্তব্যে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করেন এবং কিভাবে বৃহৎমাত্রায় স্থানীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখবে সেই বিষয়েও আলোকপাত করেন।

জিসিএমের নির্বাহী চেয়ারম্যান দাতুক মাইকেল ট্যাং পিজেএন বলেন, চুক্তি খনি এলাকায় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে জিসিএমের কৌশলগত পরিকল্পনা সঙ্গতিপূর্ণ। এর ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ফুলবাড়ী কয়লা ও বিদ্যুৎ প্রকল্প জাতির উন্নয়ন ও অগ্রতিতে একটি উল্লেখযোগ্য বহুমাত্রিক প্রভাব রাখবে।

পাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মি. ডিং ঝেং গুও বলেন, বাংলাদেশে সমন্বিত খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জিসিএমের সঙ্গে অংশীদারিত্বের জন্য পাওয়ার চায়না আনন্দিত। আমরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক স্থাপনে এবং স্থানীয়দের সুবিধার জন্য পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাওয়ার চায়না বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ইতোমধ্যে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১০টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ১ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১২টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

এখন পর্যন্ত জিসিএম বাংলাদেশে প্রায় ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। জিসিএম লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ এআইএম মার্কেটে তালিকাভুক্ত একটি খনি ও জ্বালানি কোম্পানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here