বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে পিডিবির চুক্তি

0
1594
স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে এস আলম গ্রুপ। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ৬১২ মেগাওয়াট করে মোট ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ২৪০ কোটি ডলারের এ প্রকল্পে ১৭৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে চীনা ব্যাংক।

বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি নির্মাণে গতকাল বিদ্যুত্ ভবনে এস আলম গ্রুপ ও বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) ও নির্মাণ চুক্তি (আইএ) সই হয়েছে। পিডিবির পক্ষে কোম্পানি সচিব মাজহারুল হক ও এস আলম গ্রুপের পক্ষে চেয়ারম্যান সাইফুল আলম চুক্তিতে সই করেন।

এ প্রকল্পে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে থাকছে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান সেপকো থ্রি ইলেকট্রিক পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কোম্পানি। এজন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এসএস পাওয়ার লিমিটেড ১ ও এসএস পাওয়ার লিমিটেড ২ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬১২ মেগাওয়াট করে মোট ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে। চুক্তি কার্যকরের দিন থেকে ৪৫ মাসের মধ্যে কেন্দ্র দুটি থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে।

এস আলম গ্রুপের তথ্য মতে, ১৬ নভেম্বর ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করতে পারবে কেন্দ্র দুটি। প্রকল্পের জন্য চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এরই মধ্যে ৬০০ একর জমি কেনা হয়েছে। উত্পাদনে যাওয়ার পর থেকে পিডিবি এসএস পাওয়ার লিমিটেড ১ ও এসএস পাওয়ার লিমিটেড ২ থেকে আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুত্ কিনবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা জানান, আমদানি করা কয়লায় বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি চলবে। প্রতি টন কয়লার প্রাথমিক দর ১২০ ডলার ধরে বিদ্যুতের দাম ঠিক করা হয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের অনুমিত দর (লেভেলাইড ট্যারিফ) ধরা হয়েছে ৬ টাকা ৬১ পয়সা। উত্পাদন শুরুর পর কয়লা আমদানির ওপর নির্ভর করে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হবে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পে মোট শেয়ারের ৭০ শতাংশ থাকছে এস আলম গ্রুপের কাছে। এর মধ্যে এস আলম স্টিল লিমিটেড ১০, এস আলম সিমেন্ট লিমিটেড ১০, এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড ১০, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড ১০, জেনিসিস টেক্সটাইলস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেড ১০ ও সোনালী কার্গো লজিস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেডের ২০ শতাংশ মালিকানা থাকছে।

আর সেপকোর কাছে থাকছে ২০ শতাংশ ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্টের হাতে থাকছে ১০ শতাংশ শেয়ার। প্রকল্পটিতে সেপকোই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এ বিষয়ে গত বছরের ২৯ জুন সেপকোর সঙ্গে চুক্তি হয়। এছাড়া বিদ্যুেকন্দ্রের মূল যন্ত্রাংশও সরবরাহ করবে সেপকো।

২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর এস আলম গ্রুপ প্রকল্পটির জন্য বিদ্যুত্ বিভাগের অনুমোদন পায়। তার ২৭ মাস পর চুক্তি হলেও প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র এখনো পাওয়া যায়নি। এজন্য পরিবেশগত ছাড়পত্রের এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) প্রতিবেদন পরিবেশ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

Screenshot_6
কোম্পানিটির বুধবারের শেয়ার লেনদেন ও অন্যান্য চিত্র

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী। বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পিডিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের উপদেষ্টা এএসএম আলমগীর কবির।

অনুষ্ঠানে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাভু জানান, আগামী মাসে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ শুরু হবে। আর চার ছয় মাসের মধ্যে ঋণ চুক্তি হবে।

তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে এটা বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় প্রকল্প হতে যাচ্ছে। আমাদের বেসরকারি খাত এখন আড়াই বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্যান্য উদ্যোক্তাও এতে উৎসাহিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here