বিডি ফাইন্যান্সের ১২৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়ম

0
437
সিনিয়র রিপোর্টার : আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিডি ফাইন্যান্স নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক ঋণ বিতরণ করেছে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অনেক পরিচালকের পরিচয় আড়াল করে ও একক গ্রাহক ঋণসীমার অতিরিক্ত অর্থায়ন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বৃহদাঙ্কের ১২৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের তথ্য পাঠানো হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির খেলাপির তথ্যে ৯৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা ঋণ গোপন করা হয়েছে। এসব তথ্য ও প্রমাণ সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিডি ফাইন্যান্সকে সর্বোচ্চ আর্থিক জরিমানা ১০ লাখ টাকা ও গোপন করা খেলাপি ঋণের তথ্য প্রদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেপ্টেম্বর ’১৩ ভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসএ টেলিকম সিস্টেম, বর্ণালি ফেব্রিকসের ১৪ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বেন ওশান লাইন, আয়েশা টেক্সটাইলে ৫২ লাখ টাকার ঋণ শ্রেণিকৃত হলেও বিডি ফাইন্যান্স খেলাপির তথ্যে তা গোপন করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিডি ফাইন্যান্সের গ্রাহক মিজানুর রহমান মোস্তফা, মিসেস রুখসানা মোরশেদ, অনির্বাণ দাসগুপ্ত, মো. হাবিবুর রহমান, মো. খায়ের উদ্দিন, মীর আরিফুর রহিম, মীর মামুনুর রহিমকে কোনো উদ্দেশ্য উল্লেখ ছাড়াই ৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও চারটি প্রতিষ্ঠান ১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকাসহ মোট ৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা শ্রেণিকৃত হলেও অ-শ্রেণিকৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিডি ফাইন্যান্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিডি ফাইন্যান্স সিকিউরিটিজ, হামিদা দোজা, এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ, বিএসআরএম স্টিল মিলস্ ও এর তিনজন পরিচালক আলী হোসেন আকবর আলী, আমীর আলী হোসেন, জোহাইর তাহের আলীকে সর্বমোট ১২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ঋণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৃহদাঙ্কের ঋণ বিতরণের বিবরণীতে রিপোর্ট করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিডি ফাইন্যান্সের পরিচালকদের পরিচয় আড়াল করে ও ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্য উল্লেখ না করে তিনজন পরিচালককে ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকাসহ বিএসআরএম স্টিল মিলসে্র নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। ব্যক্তি খাতে তিনজনকে দেওয়া ঋণসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণ ইকুইটির ৪৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট বা একক গ্রহণ ঋণসীমা অতিক্রম করায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ প্রসঙ্গে বিডি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. মফিজউদ্দিন সরকার বলেন, অনিয়ম সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নির্দেশনা এখনও হাতে পাইনি। তাই এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে কোনো অনিয়ম সংঘটিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নির্দেশনা দেবে তা পরিপালন করা হবে বলে তিনি জানান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, বিডি ফাইন্যান্সের উদ্দেশ্যবিহীন ও দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণগুলো যথামানে শ্রেণিকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অনুমোদনবিহীন বৃহদাঙ্কের ঋণগুলো রিপোর্ট না করা এবং পরিচালকদের পরিচয় আড়াল করে ব্যক্তিগত খাতে প্রদত্ত উদ্দেশ্যবিহীন ঋণ দেওয়ার দায়ে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তি খাতে উদ্দেশ্যবিহীন ঋণ প্রদানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিডি ফাইন্যান্সের পরিচালনা পরিষদকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিডি ফাইন্যান্সের প্রকৃত খেলাপি ঋণ ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ৭৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঋণ বা লিজের ১৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। যদিও তদের খেলাপি প্রতিবেদনে ৯৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা গোপন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here