বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ২০ কোটি টাকার পণ্য মজুদ

0
1312

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেডের মজুদ পণ্যের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। বিডি ওয়েল্ডিং ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের প্রতিবেদনে ২০ কোটি ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার ২৫৭ টাকার পণ্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে।

তবে মজুদ পণ্যের বাস্তব অস্তিত্ব যাচাইয়ের জন্য নিরীক্ষককে পর্যাপ্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি। এ কারণে নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণেও মজুদ পণ্যের অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো মজুদ পণ্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষক। পাশাপাশি সম্পদ, কারখানা ও সরঞ্জামাদির বিপরীতে ক্ষতি (ইমপেয়ারমেন্ট) নির্ধারণ, বিলম্বিত কর, লভ্যাংশ ও সঞ্চিতির বিষয়ে মত দিয়েছেন নিরীক্ষক।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক তার মতামতে জানিয়েছেন, কোম্পানিটি সম্পদ, কারখানা ও সরঞ্জামাদির মূল্য হিসাবে ১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা দেখিয়েছে। বিডি ওয়েল্ডিং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় কারখানা স্থানান্তর করছে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে এক্ষেত্রে সম্পদ, কারখানা ও সরঞ্জামাদির বিপরীতে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিডি ওয়েল্ডিং এ ধরনের কোনো ক্ষতির অংক নির্ধারণ করেনি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

বিডি ওয়েল্ডিং ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের প্রতিবেদনে ২০ কোটি ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার ২৫৭ টাকার পণ্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে এ ধরনের পণ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নিরীক্ষাকালে কোম্পানিটি মজুদ পণ্যের কোনো রেকর্ডও দেখাতে পারেনি। ফলে মজুদ পণ্যের বিষয়টি নিরীক্ষকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কোম্পানিটি শুধু পুনর্মূল্যায়িত সঞ্চিতির ভিত্তিতে বিলম্বিত কর হিসাব করেছে এবং সাময়িক বিচ্যুতির পরিমাণ বিবেচনা করেনি। এছাড়া কোম্পানির অনাদায়ী লভ্যাংশের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে কিন্তু এর বিপরীতে কোনো তহবিলের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি নিরীক্ষক।

মতামতের বাইরে নিরীক্ষক আরো দুটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর মধ্যে কারখানার উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটিকে গোয়িং কনসার্ন হিসেবে দেখানোর বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার বিষয়টি রয়েছে। তাছাড়া মজুদ পণ্য, পাওনা এবং নিবন্ধন ও নামজারির বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার বিষয়েও শেয়ারহোল্ডারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নিরীক্ষক।

এদিকে প্রায় দেড় বছর ধরে উত্পাদন বন্ধ থাকলেও ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা দেখিয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং। চট্টগ্রামের জমি বিক্রির অর্থে তারা মুনাফা দেখাতে সক্ষম হয়।

পুরনো কারখানার জমি বিক্রি বাবদ প্রাপ্ত ৪২ কোটি টাকায় ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও ঢাকার ধামরাইয়ে নতুন কারখানার জন্য জমি কেনার পর কিছু অর্থ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে আয় হিসেবে যোগ হয়েছে। নতুন প্লটে নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে, যা শেষ করে এক বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্পাদনে যাওয়ার আশা করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। তবে সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য আগের মতোই কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি কোম্পানিটি।

৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৫ পয়সা। যদিও আগের বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩ টাকা ১৩ পয়সা। চলতি ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথাম প্রান্তিকে (জুলাই- সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৪ পয়সায়।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য এজেন্ডা বাস্তবায়নে ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে কোম্পানিটি। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর।

ডিএসইতে সর্বশেষ ২৪ টাকা ৭০ পয়সায় বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৯ টাকা ১০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ২৭ টাকা ৯০ পয়সা। হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ১২ দশমিক ৬২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here