বিক্রয় চাপ কি শেষ হয়েছে ?

0
1998

মেহেদী আরাফাত : টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী সপ্তাহের শেষ কার্জ দিবসে ঢাকা শেয়ার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়- ডিএসইএক্স ইনডেক্স লেনদেনের শুরু থেকেই হ্রাস পেতে থাকে। দিনের শুরুতে কিছুটা ক্রয়চাপ থাকলেও কিছু সময় পর বিক্রয় চাপের ফলে সূচক বেশ নিম্নমুখী হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিক্রয় চাপ আরও প্রবল হতে থাকে ফলে ডিএসইএক্স ইনডেক্স তার নিকটতম সাপোর্ট লেভেল “৪৫০০” পয়েন্টকে ব্রেকডাউন করে হ্রাস পেতে থাকে এবং দিনশেষে লেনদেন গতকালের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও সূচক ৫৮.৩৯ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। সূচকের এ দরপতনের ফলে আজকের ক্যান্ডেলস্টিক একটি বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিক ছিল। এই বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিক বাজারের বিক্রয় চাপ প্রকাশ করছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় মূল্য হ্রাসের শীর্ষে অবস্থান করছে ৪ টি ব্যাংক। যাদের গতকাল ছিল লভাংশের জন্য নির্ধারিত রেকর্ড ডেট। স্বাভাবিক ভাবে আজ তাদের  লেনদেন শুরু হয়েছে এবং মূল্য কারেকশন হয়েছে। এর ফলে শুরু থেকে ডিএসইএক্স ইনডেক্স নেগেটিভ হতে থাকে। গত কয়েকদিনের পতনের জন্য যে বিষয়গুলি বেশী ভুমিকা রেখেছে তার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যাংকের এর রেকর্ড ডেট এবং সরকারের পিছনের তারিখে তেলের মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত। স্থানীয় রিফাইনারিগুলো থেকে কেনা জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তের একাংশ স্থগিত হয়ে গেছে। সোমবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ওই অংশ স্থগিত করে আদেশ জারি করেন। আদালত পেছনের তারিখে তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রোণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছে। এর একটা ভাল প্রভাব আগামী কার্জ দিবসে বাজারে পরতে পারে। তা ছাড়া রেকর্ড ডেটের কারণে কোন ব্যাংকের মূল্য কারেকশন নেই আগামী কার্জ দিবসে।

বর্তমানে ডিএসইএক্স ইনডেক্স এর পরবর্তী সাপোর্ট ৪৪৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আজ বাজারে এম.এফ.আই এর মান ছিল ৬.৩৯ এবং আল্টিমেট অক্সিলেটরের মান ছিল ২২.১০। এম.এফ.আই এবং আল্টিমেট অক্সিলেটর উভয়েই নিম্নমুখী অবস্থায় ছিল। স্টচ আর.এস.আই এর মান এখন সর্বনিম্ন অর্থাৎ শুন্য যা বাজারের ওভার-সোল্ড অবস্থা প্রকাশ করছে। ঢাকা শেয়ারবাজার ডিএসইএক্স ইনডেক্স ৫৮.৩৯ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৪৪৭৭.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে যা আগের দিনের তুলনায় ১.২৮% হ্রাস পেয়েছে।Screenshot_1

ডিএসইতে ৬ কোটি ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৯ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়, যার মূল্য ছিল ২৮৯.৭১ কোটি টাকা। আজ ডিএসইতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার লেনদেন বেড়েছে। আজ ঢাকা শেয়ারবাজারে ৩০৬ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৩ টির, কমেছে ২২৯ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

পরিশোধিত মূলধনের দিক থেকে দেখা যায়, আজ বাজারে চাহিদা বেশি ছিল ৩০০ কোটি টাকার উপরে পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যা আগেরদিনের তুলনায় ৫৬.০৮% বেশী ছিল। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে ২০-৫০ এবং ১০০-৩০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৬.২% এবং ৭.৩৪% কম। ৫০-১০০ কোটি টাকার মুলধনী প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমান গতকালের তুলনায় আজ ২৭.৩২% বেশী।

আজ পিই রেশিও ০-২০ মধ্যে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৫.৩১% বেড়েছে। আজ পিই রেশিও ৪০ এর ওপরে থাকা শেয়ারের লেনদেন যার পরিমান আগের দিনের তুলনায় .১৬% কম ছিল।

ক্যাটাগরির দিক থেকে আজ এগিয়ে ছিল ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন যা আগেরদিনের তুলনায় ১৪.০৮% বেশী ছিল। আজ হ্রাস পেয়েছে ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন যা আগেরদিনের তুলনায় ১২.৯৭% বেশী ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here