বিক্রি হচ্ছে কমার্স ব্যাংক!

0
1320
এসবি ডেস্ক : বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ১৭৫ কোটি টাকায় কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন ১৩ উদ্যোক্তা। এ প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা শুরুর পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এনারগোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে চলতি মাসের প্রথম দিকে ব্যাংকটি কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগ্রহী ক্রেতারা প্রথমে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের কাছে। তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে তা বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেন। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যাংকিং বিভাগকে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এনারগোটেকের প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

এনারগোটেকের চেয়ারম্যান মনিরা আকতার স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও ব্যাংকটি এখন পর্যন্ত কোনো মুনাফা করতে পারেনি। ১৪ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে লোকসান দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৪ সাল থেকে এটি প্রবলেম ব্যাংক (সমস্যাগ্রস্ত) হিসেবে চিহ্নিত।

যে ১৩ উদ্যোক্তা কমার্স ব্যাংক কেনার উদ্যোগ নিয়েছেন, তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনারগোটেকের পরিচালক আরিফুর রহমান। অন্য উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন— আলিফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সুজা উদ্দিন, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম ও তার স্ত্রী, সজিব করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী শামীমা হায়দার চৌধুরী, এইচএইচ টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন, কটন অ্যান্ড কটন গার্মেন্টস লিমিটেডের পরিচালক তাসমিন মাহমুদ। আরো রয়েছেন আবুল কাশেম, ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, সেলিনা আলী, মো. আবদুল্লাহ, মো. সাইফুল ইসলাম ও সামসুদ্দিন বাবুল।

এনারগোটেকের দাবি, মহাজোট সরকার গত মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটি বিক্রির দরপত্র আহ্বান করা হয়। তখন এটি কেনার জন্য প্রস্তাব দেন আরিফুর রহমান। ১০০ টাকার প্রতিটি শেয়ার ১৭৩ টাকায় কেনার প্রস্তাব দেন তিনি। অনেক দিন ধরে ব্যাংকটি কেনার ব্যাপারে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন— এমন দাবি করে এনারগোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে ব্যাংকটি কেনার চেষ্টা করছি। দরপত্রে অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছি। কিন্তু চূড়ান্তভাবে ব্যাংকটি কেনা যায়নি।’

তবে এ বিষয়ে কমার্স ব্যাংকের এমডি আবু সাদেক এম সোহেল বলেন, ব্যাংকটি বিক্রির ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। তাছাড়া কমার্স ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির বিষয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তরে আইনগত জটিলতা রয়েছে।

জানা গেছে, কমার্স ব্যাংকে সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে সরকারের শেয়ার। প্রতি বছর লোকসান দেয়ায় ব্যাংকটি নিয়ে এক দশকের বেশি ধরে সমস্যায় রয়েছে সরকার। পাশাপাশি সোনালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকও এটিকে বাড়তি ঝামেলা মনে করছে। সমস্যা সমাধানে গত চারদলীয় জোট সরকার ব্যাংকটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। মহাজোট সরকারও ব্যাংকটি বিক্রির উদ্যোগ নেয়।

কয়েক বছর আগে ব্যাংকটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চায় অর্থ মন্ত্রণালয়। এ তিন প্রতিষ্ঠানের মতামতের ভিত্তিতে সরকার তিনটি বিকল্প ঠিক করে। ব্যাংকটির মূলধন উন্নীত করে শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর, ব্যাংকটি পুনর্গঠন অথবা অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ। তবে লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় তা বিক্রি করার পক্ষে মত দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

ব্যাংকবহির্ভূত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবলুপ্ত বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (বিসিআইএল) ২৭ জানুয়ারি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এবং ১৯৯২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। তারল্য সংকটে পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হলে ১৯৯২ সালের একই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। এতে আমানতকারী ও ব্যাংকের কর্মীরা বিপাকে পড়ে আন্দোলনে নামেন। পরে সরকার বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড (বিসিবিএল) হিসেবে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করে। সাবেক বিসিআইএলের ২৪টি শাখাকে পুনর্গঠনপূর্বক বিসিবিএলের পূর্ণাঙ্গ শাখা হিসেবে চালু করা হয়। একটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে বিসিবিএল ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে যাত্রা করে।

উল্লেখ্য, বিসিবিএলের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫২ কোটি টাকা অবলুপ্ত বিসিআইএল থেকে পাওয়া, ৩০ কোটি টাকা সরকারের আর ১০ কোটি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী ও জনতা ব্যাংকের। সূত্র : বণিক বার্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here