বিক্রি বাড়ায় স্কয়ার ফার্মার আয়ও বেড়েছে

0
989

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যবসা প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময় মোট বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে অন্যান্য আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা এক বছর আগের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত ওষুধের গুণগত মান ও ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণেই স্কয়ার ফার্মার ওষুধ বিক্রি বেড়েছে, যার প্রভাব দেখা গেছে মুনাফায়ও। পাশাপাশি ব্যাংকে সঞ্চয় থেকে সুদ আয়, সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ থেকে লভ্যাংশ আয় ও অন্যান্য খাত থেকে আয় বাড়ায় জুলাই-সেপ্টেম্বর নিট মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

একই সঙ্গে কোম্পানির দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে পরিচালন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে স্কয়ার ফার্মার মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা; আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৯৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাদ দিলে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৯৮৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা; আগের বছর একই সময় যা ছিল ৮৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

এদিকে আলোচ্য সময়ে স্কয়ার ফার্মার বিক্রি প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়লেও উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় সমানুপাতে বাড়েনি। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি অন্যান্য আয় প্রায় দ্বিগুণে উন্নীত হওয়ায় কর-পরবর্তী মুনাফা ২৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে কোম্পানিটির। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অন্যান্য খাত থেকে স্কয়ার ফার্মার আয় এসেছে ৪২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা; আগের বছরের একই সময় যা ২১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্কয়ার ফার্মার নিট মুনাফা হয়েছে ২৮১ কোটি টাকা; আগের বছর একই সময় হয় ২২২ কোটি টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৩৯ পয়সা; আগের বছর একই সময় যা ছিল ৩ টাকা ৫৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা ২২ পয়সা।

এদিকে সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্কয়ার ফার্মার পর্ষদ। পাশাপাশি চলতি বছরে কারখানার সংস্কার ও আধুনিকায়ন (বিএমআরই), বিদেশ থেকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি এবং জমি কিনতে ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

এছাড়া স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি স্কয়ার ফর্মুলেশন্স ও সিস্টার কনসার্ন স্কয়ার হার্বাল অ্যান্ড নিউট্রাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে একীভূত করবে বলেও জানিয়েছে। এজন্য উচ্চ আদালতের পাশাপাশি বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদেরও অনুমোদন নিতে হবে তাদের। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে এজিএম আয়োজন করা হয়েছে। রেকর্ড ডেট ছিল ৮ নভেম্বর।

২০১৬-১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ হিসাব বছরে স্কয়ার ফার্মার কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৯৭১ কোটি টাকা; আগের বছর যা ছিল ৮২৮ কোটি টাকা। গেল বছরে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১৫ টাকা ৫১ পয়সা; আগের বছর যা ছিল ১৩ টাকা ৪১ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে আসা এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬৮৫ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১৬৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১০ দশমিক ৩৪, বিদেশী ১৯ দশমিক ১৫ ও বাকি ৩৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে সর্বশেষ ৩০৬ টাকা ৬০ পয়সায় স্কয়ার ফার্মার শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৩১৯ টাকা ৮০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ২৪২ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৯ দশমিক ৬০, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ১৭ দশমিক ৪৩।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here