ডেস্ক রিপোর্ট : আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের মুনাফায়। রঙ উৎপাদনের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিক্রি বাড়লেও মুনাফা কমেছে কোম্পানিটির। সর্বশেষ হিসাব বছরে বার্জারের পণ্য বিক্রি ২২ দশমিক ১৯ শতাংশ বাড়লেও মুনাফা কমেছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, এমনিতেই কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে কোম্পানির ব্যয় বেড়েছে। এর বাইরে গত বছর যেখানে গড়ে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮১ টাকা ৫০ পয়সা, সেটি এ বছরে এসে গড়ে ৮৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশী টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এ খাতে বাড়তি ব্যয় হয়েছে কোম্পানির। কিন্তু ব্যয় বাড়লেও ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে চাইলেই পণ্যের দাম বাড়ানো যায় না। ফলে সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে বিক্রি বাড়া সত্ত্বেও আমাদের মুনাফা কমেছে। তবে আমরা বিপণন ও প্রচারণা খাতে ব্যয় বাড়িয়েছি। পাশাপাশি নতুন পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

চলতি বছরের ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরে বার্জার পেইন্টসের বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময় বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। কাঁচামাল ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছরে এর আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে ৯০২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গ্রস মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়ে ৭৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিক্রি, বিতরণ, ওয়্যারহাউজ, প্রশাসনিক ও অন্যান্য খাতে গত বছরে কোম্পানিটির ব্যয় হয়েছে ৫০৫ কোটি টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৪৬৪ কোটি টাকা। গত বছরে বার্জার পেইন্টসের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২৪৫ কোটি টাকা, যা এর আগের বছর ছিল ২৬১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন মুনাফা কমেছে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।

এদিকে গত বছরে কর পরিশোধের পর বার্জার পেইন্টসের মুনাফা হয়েছে ১৭৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৯১ কোটি টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭৭ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৮২ টাকা ৫৮ পয়সা। ৩১ মার্চ এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮৪ টাকা ১১ পয়সা।

পেইন্টসের বাইরে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে চলতি বছরের শুরুতে নির্মাণ শিল্পের কেমিক্যাল উৎপাদনের জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফসরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি করার ঘোষণা দেয় বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ। এজন্য এ বছরের এপ্রিলে বার্জার ফসরক লিমিটেড নামে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি গঠন করা হয়। এ কোম্পানিতে বার্জার ও ফসরক ইন্টারন্যাশনালের ৫০ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে।

সাভারের ধামরাইয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১ জুলাই থেকে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও কিছু কারিগরিগত কারণে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। তবে শিগগিরই এ প্রকল্পে উৎপাদন শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ২০০ শতাংশ নগদ ও ১০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশও সুপারিশ করেছে বার্জার পেইন্টসের পরিচালনা পর্ষদ। অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর জন্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে ১৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে ইজিএম আহ্বান করেছে বার্জার পেইন্টস।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য একই দিন একই স্থানে সকাল ১০টায় এজিএমও আয়োজন করবে কোম্পানিটি।

২০০৬ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৩ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ৫৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯৫ শতাংশই এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১ দশমিক ৬৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ৫৭ এবং বাকি ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১২ দশমিক শূন্য ৬, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১৭ দশমিক শূন্য ৫।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here