বিক্রি কমেছে লাফার্জ সুরমার, মুনাফা নিম্নমুখী

0
700

সিনিয়র রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম কমায় প্রবৃদ্ধি সংকটে পড়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড। দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটির সিমেন্ট বিক্রি বাড়লেও ক্লিংকারের কারণে দুই বছর ধরে তাদের টার্নওভার ও নিট মুনাফা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত বিক্রি ১৪ কোটি টাকা কমেছে, শতকরা হিসাবে যা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় নিট মুনাফাও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।

জানা গেছে, বাংলাদেশে সিমেন্ট উৎপাদন ও বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় কোম্পানিগুলোর কাছে ক্লিংকারও বিক্রি করে লাফার্জ সুরমা। গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালটির দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্থানীয় বাজারেও ক্লিংকারের দাম কমিয়ে দেয় লাফার্জ সুরমা। এতে দুই বছর ধরে কোম্পানিটির বিক্রীত পণ্যের পরিমাণ বাড়লেও টাকার অংকে নিট বিক্রি কমেছে।

অন্যদিকে টার্নওভার হ্রাস ও উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব দেখা গেছে কোম্পানির নিট মুনাফায়। দুই বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ২১ শতাংশের বেশি কমেছে।

কোম্পানি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে সিমেন্টের দামও। বাংলাদেশে সিমেন্টের বাজার বড় হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকতে স্থানীয় সিমেন্ট কোম্পানিগুলোও তাদের পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। গত দুই বছরে দেশের বাজারে গড়ে ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে সিমেন্টের দাম। দাম কমাতে হয়েছে লাফার্জ সুরমাকেও।

এ কারণে পরিমাণের ভিত্তিতে বাড়লেও টাকার অংকে তাদের সিমেন্ট বিক্রি কমেছে। এর ওপর ক্লিংকার বিক্রি থেকে মুনাফা কমায় নিট বিক্রি ও মুনাফায় কিছুটা পিছিয়েছে কোম্পানিটি। তবে হোলসিম অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সে কারখানায়ও নিজেদের ক্লিংকার সরবরাহ করতে পারবে লাফার্জ। এর মধ্য দিয়ে ক্লিংকারে লাফার্জ সুরমার বাজার-নির্ভরতা কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত উপাত্ত বলছে, সর্বশেষ হিসাব বছরে ১ হাজার ৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে লাফার্জ সুরমা। ২০১৫ সালে যেখানে কোম্পানির নিট সমন্বিত বিক্রি ছিল ১ হাজার ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির নিট বিক্রি কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বা ১৪ কোটি টাকা।

তবে ২০১৪ সালের তুলনায় গত দুই বছরে টাকার হিসাবে কোম্পানির মোট বিক্রি কমেছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে টার্নওভার নিম্নমুখী থাকার পরও উৎপাদন না কমানোয় পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় কমেনি কোম্পানিটির। এর প্রভাব দেখা গেছে সমন্বিত নিট মুনাফায়।

সর্বশেষ হিসাব বছরে (২০১৬) লাফার্জ সুরমার সমন্বিত নিট মুনাফা হয় ২২২ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ টাকা ৯২ পয়সা। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফা ছিল ২২৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৪ সালে তাদের করপরবর্তী মুনাফা ছিল ২৮১ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ও ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪৫ পয়সা। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুই বছরে এ কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

এদিকে ২০১০ সালে কোম্পানির বিক্রি ছিল ৬০৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালে ১ হাজার ৯৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। এর আগে ২০১৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা করে ৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে লাফার্জ সুরমা।

৩১ ডিসেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৩ টাকা ২৪ পয়সা। লভ্যাংশ, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ১৫ জুন বেলা ১১টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে লাফার্জ সুরমা। এজিএমের স্থান পরে জানিয়ে দেয়া হবে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ এপ্রিল।

২০০৩ সালে শেয়ারবাজারে গ্রিনফিল্ড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৭৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০, যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ৬৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ৩৩, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ৪৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার।