বিক্রি ও মুনাফা কমেছে এপেক্স ফুটওয়্যারের

0
85

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) চামড়া খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের বিক্রি ও কর-পরবর্তী মুনাফা কমেছে। এর মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা বাড়লেও অন্য দুই প্রান্তিকে (প্রথম ও দ্বিতীয়) কোম্পানিটি মুনাফা বাড়াতে পারেনি। মূলত ঋণের সুদ পরিশোধ এবং রফতানি বাণিজ্যে মন্দা ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে কোম্পানিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এপেক্স ফুটওয়্যারের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে রফতানি ও স্থানীয় বাজারে কোম্পানিটির মোট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির উৎপাদন খাতে ব্যয় হয়েছে ৮৬৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৯৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

বিক্রি কমলেও তিন প্রান্তিকে এপেক্স ফুটওয়্যারের পরিচালন মুনাফা কিছুটা বেড়ে ৭৪ কোটি ৬১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে আর্থিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা প্রায় ২১ শতাংশ কমে ১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিকে শ্রমিকের মুনাফা বণ্টন তহবিল ও কর বাবদ সঞ্চিতি বাদ দিয়ে চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ টাকা ৮৪ পয়সা। ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪৭ টাকা ২৫ পয়সা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৮৪২ কোটি ৯২ লাখ টাকার। আগের বছরের একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ছিল ১০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল ৮৩৯ কোটি টাকা।

আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটি ১৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে। আর ঋণের সুদ বাবদ ৬৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। আগের বছরের একই সময়ে ৩৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সুদ পরিশোধ করেছিল তারা। কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ৩১ মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডার ইকুইটি ২৭৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার।

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ভালো না গেলেও তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটি ভালো মুনাফা করেছে। আলোচ্য সময় তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ইপিএস ২ দশমিক ৩০ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে নিট লোকসান ছিল ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ২ টাকা ৫৭ পয়সা।

হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল, যা আগের বছর ছিল ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) নিট মুনাফা হয় ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

এপেক্স ফুটওয়্যারের কারখানার দুটি ইউনিটে জুতা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ইউনিট ১-এ উৎপাদিত জুতা রফতানি হয়। আর ইউনিট ২-এ উৎপাদিত জুতা দেশীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি ৯০০ কোটি টাকার জুতা রফতানি করেছে। আর দেশের বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার জুতা। রফতানিতে খরচ বেশি হওয়ায় সেখান থেকে মুনাফা হয়েছে ৯৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। দেশীয় বাজার থেকে মুনাফা এসেছে ২৩৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

আলোচ্য হিসাব বছরে এপেক্স ফুটওয়্যার শেয়ারহোল্ডারদের ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৫৪ পয়সা, যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল ৭ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৪৪ টাকা ৪২ পয়সা।

এপেক্স ফুটওয়্যারের কোম্পানি সচিব গোলাম ফারুক এ বিষয়ে বলেন, অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আমাদের ব্যবসায় মন্দা থাকে। তবে এবার আমরা ভালো করেছি। দেশীয় বাজারে আমাদের মোট জুতা বিক্রির ৩০ শতাংশ আসে ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ করে। তাই চলতি হিসাব বছরের শেষ প্রান্তিকে আমাদের ভালো প্রবৃদ্ধি আসবে। যার প্রভাবে বছর শেষে আমাদের নিট মুনাফা ভালো আসবে।

রফতানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ববাজারে চামড়ার জুতা রফতানিতে মন্দাভাব চলছে। কারণ বিশ্বব্যাপী নন-লেদার জুতার চাহিদা বেড়েছে। এর জন্য আমাদের পাশাপাশি দেশীয় অন্য কোম্পানিগুলোও ভালো অবস্থায় নেই। নন-লেদার টেকনোলজিতে অনেক খরচ। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নন-লেদার জুতা উৎপাদনে যাওয়া এখনই সম্ভব না।

এছাড়া আমাদের ডলারে কাঁচামাল কিনে জুতা প্রস্তুত করে ইউরোতে রফতানি করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে ইউরোর মূল্য পড়ে যাওয়ায় আমাদের খরচ অনেক বেড়েছে। এতে মুনাফার মার্জিন কমে গেছে।

২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল এপেক্স ফুটওয়্যার। তার আগে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্যও ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ২৮৬ টাকায় এপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ার হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ২৬৩ টাকা ও ৩৭১ টাকা ৮০ পয়সা।

১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৫৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ৩৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ও বাকি ৪১ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৭১ দশমিক ৪৬, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে যা ২৫ দশমিক ৬১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here