বিকল্প বিনিয়োগ বিধির খসড়া প্রকাশ

0
909
ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রণীত ‘বিকল্প বিনিয়োগ বিধি’র খসড়া জনমত জরিপের জন্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট) রুলস, ২০১৫ নামে এ বিধিমালার বিষয়ে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত মতামত দেওয়া যাবে। খসড়ার বিষয়ে যে কোনো মতামত, আপত্তি বা পরামর্শ বিএসইসি চেয়ারম্যান বরাবর জানাতে হবে।
জনমত যাচাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনসাপেক্ষে এটি কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন দিবে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারির পর এ বিধি কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, ২ জুন অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানিতে তহবিলের সিংহভাগ অর্থ বিনিয়োগের বিধান রেখে প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফিন্যান্সিং রুলসের খসড়া তৈরি হয়েছে। মূলত ব্যক্তি খাতের সম্ভাবনাময় কোম্পানিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে এ সব তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়ায় তহবিলগুলোর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’।

বিদ্যমান মিউচুয়াল ফান্ড নীতিমালার আদলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন-পরিবর্ধন এনে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগে বিশেষ এ তহবিল গঠনের নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

খসড়া বিধিতে ফান্ড গঠন ও পরিচালনা এবং ফান্ড ম্যানেজার ও ফান্ডের ট্রাস্টির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, একটি অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ন্যূনতম আকার হবে ১০ কোটি টাকা এবং এতে প্রাথমিকভাবে উদ্যোক্তার অংশ কোনোভাবেই তহবিলের মোট আকারের ১০ শতাংশের কম হতে পারবে না।

আইপিওর মাধ্যমে ফান্ডের অর্থ যোগাড় করা যাবে না। শুধুমাত্র প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মোধ্যমে বৈধ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ফান্ডের অর্থ সংগ্রহ করা যাবে। প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকার ফান্ডের ইউনিট ক্রয় করতে হবে। সর্বোচ্চ ২০০ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা যাবে।

তহবিলের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ অর্থ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে। তবে কোনো কারণে যদি তা করা সম্ভব না হয় তাহলে বাকি অর্থ মানি মার্কেটে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বিনিয়োগ করা যাবে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ও অন্য তহবিল ব্যবস্থাপক দ্বারা পরিচালিত অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে তহবিলের বাকি ২৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। তবে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো একক কোম্পানিতে ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না। শুধুমাত্র ইক্যুইটিতে এ সব ফান্ড বিনিয়োগ করা যাবে। কোনো ধরনের ঋণপত্রে এ ধরনের তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না।

এ ফান্ড কোনো অবস্থায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে না। এমনকি এ ধরনের ফান্ড কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োজিত থাকলে সেই কোম্পানি দুই বছরের মধ্যে শেয়ারাবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন জানাতে পারবে না। প্রতিটি ফান্ডের মেয়াদকাল হবে ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। ফান্ড গঠনের সময় মেয়াদ নির্দিষ্ট করতে হবে।

অল্টারনেটিভ ফান্ড পরিচালনার জন্য ফান্ড ম্যানেজার থাকবে। বিএসইসি নিবন্ধন ব্যতীত কোনো ফান্ড ম্যানেজার এ ধরনের ফান্ড গঠন করতে পারবে না। কোম্পানি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে নিবন্ধন জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৫ কোটি টাকা।

বিদ্যমান কোনো ফান্ড ম্যানেজার এই বিধির আওতায় ফান্ড ম্যানেজার হতে চাইলে বর্তমান ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে পরিশোধিত মূলধনের অতিরিক্ত আরও ৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। কিন্তু কোনো বিদেশী ফার্ম ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে নিবন্ধন পেতে হলে তার পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি টাকা হতে হবে। এ ছাড়া ফান্ড ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক টিম থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগেই দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল-সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয় কমিশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here