বিএসইসির কাছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চিঠি

0
1280

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংকিং কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাব প্রণয়নের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে হিসাব বিবেচনা নেওয়ায় বিকল্প অর্থায়ন প্রক্রিয়া এবং পুঁজিবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে পাঠানো চিঠিতে এমন মূল্যায়ন তুলে ধরেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

চিঠিতে পুঁজিবাজার উন্নয়নে বর্তমানের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো উল্লেখ করে তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংস্থাটির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসই। চিঠিতে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের কোনো কোম্পানি অপর কোনো কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয়ের পাশাপাশি প্রেফারেন্সিয়াল শেয়ার, করপোরেট বন্ড ও ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করেছে। আবার তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করছে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা জানান, পুঁজিবাজারে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়ে থাকে। সেসব আলোচনাসভায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো সাম্প্রতিক নেতিবাচক অবস্থা বিষয়ে বারবারই কারণ উল্লেখ করেছে। তারাই এ বিষয়ের সমাধানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানায়। আশা করছি বিএসইসি এর সুরাহায় এগিয়ে আসবে।২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর জারি করা এক সার্কুলারবলে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত বিনিয়োগ হিসেবে এর সবই হিসাব করে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে, যা একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও অর্থবাজারের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, যেসব অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ব্যাংকিং কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করেছে, সেগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী নয়। বরং বিনিয়োগের নির্দিষ্ট সময় পর ওইসব কোম্পানি নগদ অর্থের বিনিময়ে ওই বিনিয়োগ ফেরত দেয়। উপরন্তু দেশে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর করা সহজ নয়। এ অবস্থায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির বাজারদর বাড়লে কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে কেবল তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত বিনিয়োগসীমা অনুসরণ করতে হচ্ছে। এটা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএসই বলছে, প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণির এ বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির চাপ গ্রহণ করার মতো দেশের শেয়ারবাজারে ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারী এখনো সৃষ্টি হয়নি।এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের সার্বিক স্বার্থে ডিএসই সুপারিশ করেছে ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাব করতে।

এ বিষয়ে ডিএসইর প্রস্তাব হলো অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ যাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউস বা পুঁজিবাজার সংক্রান্ত অন্য কোনো ব্যবসায় সম্পৃক্ত কোম্পানিতে মূলধন বিনিয়োগ, সহযোগী কোম্পানির পুঞ্জীভূত মুনাফার যে অংশ মার্জিন ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে, অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগী কোম্পানির নেওয়া ঋণ; যা মার্জিন ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হিসাব পদ্ধতি সংশোধন করা হলে পুঁজিবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কার্যক্রম বাড়বে, যা পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।

এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসে মূলধনী বিনিয়োগ বা এসব সহযোগী কোম্পানির বাজার মূল্য বৃদ্ধির অঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজার বিনিয়োগ হিসেবে থেকে বাদ দেওয়া হলে মার্চেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বা ব্রোকার ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বাভাবিক বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এতে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে, যা পুঁজিবাজার তথা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here