বিএসইসি কমিটির সঙ্গে ডিএসই বৈঠক

0
972

স্টাফ রিপোর্টার : কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের নানা বিষয়ে নিয়ন্ত্রকদের প্রশ্নের জবাব পাঠানোর পরদিনই সে সব বিষয়ে বিএসইসির সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে.এ.এম মাজেদুর রহমান নেতৃত্বে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে শেনঝেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিএসইসি গঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে দেয়া লিখিত জবাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়ার জন্যই গতকাল কমিশনে যান ডিএসই কর্মকর্তারা।

কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের দিন জমা দেয়া ব্যাখ্যাগুলোর বিষয়ে সামনাসামনি আলোচনার জন্য সময় চেয়েছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তারা। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় এর বাইরে কোনো কথা হয়নি। এর ভিত্তিতেই তারা নিজেদের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। আগামীকাল পূর্বনির্ধারিত ১০ কার্যদিবস পার হবে।

এর আগে গত রোববার বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই ডিএসইর কোম্পানি সচিবের নেতৃত্বে একটি টিম বিএসইসি কার্যালয়ে কমিশনের প্রশ্নের উত্তর ও ব্যাখ্যাসংবলিত নথিপত্র জমা দেয়।

বিএসইসির প্রশ্নের উত্তরে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিএসইর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থরক্ষা ও সম্ভাব্য পরিচালন জটিলতা এড়াতে চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে দরকষাকষি করেছে তারা। কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রাথমিক প্রস্তাবে বেঁধে দেয়া অনেক শর্তই শিথিল করতে সম্মত শেনঝেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মিলিত কনসোর্টিয়ামটি। দরকষাকষির পর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া শিথিলতা বা পরিবর্তনগুলো ব্যাখ্যাসংবলিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএসইর কাছে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের খুঁটিনাটি যেসব বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল স্থানীয় আইনের পরিবর্তে যুক্তরাজ্যের আইনে বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদন ও ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত বিবাদ হলে তা লন্ডনের সালিশি আদালতে মীমাংসার শর্ত। এর মধ্যে প্রথম অংশটিতে শিথিলতা প্রদর্শন করে বাংলাদেশের স্থানীয় আইনে বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনে প্রাথমিক সম্মতির কথা জানিয়েছেন কনসোর্টিয়াম-সংশ্লিষ্টরা। তবে তৃতীয় কোনো দেশের সালিশি আদালতের আবশ্যকতা রয়ে গেছে।

চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব করা ৩৭১ কোটি টাকার বিনামূল্যের কারিগরি সহায়তা প্যাকেজের ভ্যালুয়েশন নিয়ে প্রশ্ন করেছিল বিএসইসির কমিটি। এ বিষয়ে ডিএসইর বক্তব্য, এ সহায়তা প্যাকেজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রস্তাব করায় এর কোনো স্বতন্ত্র ভ্যালুয়েশন করেনি তারা। তবে নিয়ন্ত্রকরা চাইলে এটি করা সম্ভব।

এ তালিকায় আরো বেশি কিছু পয়েন্টের কথা উল্লেখ করে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাব প্রাথমিক অবস্থা থেকে চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তি পর্যন্ত পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে দুপক্ষের মধ্যে অনেক দরকষাকষি ও সমঝোতার সুযোগ আছে। নিয়ন্ত্রকরা চাইলে এর ভিত্তিতে শর্ত সংযোজন, বিয়োজন ও পরিবর্তন সম্ভব। প্রতিটি পরিবর্তনই ডিএসইর জন্য ইতিবাচক হবে। সূত্র: বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here