বিএসইসির সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ

0
343

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা।বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খায়রুল হোসেনসহ ৪ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তারা পুঁজিবাজার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি নতুন কমিটির নেতারা বিএসইসির কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, দেশে ব্যবসারত বহুজাতিক ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই পুঁজিবাজারে আসতে হবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার রিয়াদ মতিন ও সদস্য মাহবুব হোসেন মজুমদার, তওহিদ আহমেদ চৌধুরী, মুহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, মুহাম্মদ সালেহ আহমেদ, মো. সোহেল রহমান এবং মো. আবু বকর প্রমুখ।

বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে, বিশেষ করে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। অন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বিএমবিএকে সমন্বিতভাবে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনী বছর হওয়ার কারণে পুঁজিবাজারে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারে বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে বলেন, এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বিএমবিএর কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব আহ্বান করবে বিএসইসি। অন্য স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হবে। পরবর্তীতে বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ সরকারকে জানানো হবে। পুঁজিবাজারের স্বার্থে বহুজাতিক ও সরকারের ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুক বিল্ডিং আইনে আবারো কিছু পরিবর্তন করা হবে উল্লেখ করে ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, বিএমবিএর সঙ্গে এ বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা করে তাদের কাছে মতামত চাইবে বিএসইসি। তাছাড়া সম্প্রতি করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডসের খসড়া প্রকাশ করেছে কমিশন। এ বিষয়ে বিএমবিএসহ অন্য স্টেকহোল্ডারদের মতামত প্রত্যাশা করছে বিএসইসি।

তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির সঙ্গে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ করার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, একীভূতকরণসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়েও বিএমবিএসহ অন্যদের কাছ থেকে সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করছে কমিশন।

মার্কেট মেকারের বিষয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত আগ্রহী না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. এম খায়রুল বলেন, এ সংক্রান্ত আইন তৈরি হলেও এখনো মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে যথেষ্ট সাড়া পাওয়া যায়নি। মার্কেট মেকারের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে বিএমবিএকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির (সিসিপি) বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ইটিএফ ও সিসিপি জন্য রুলস তৈরি করা হলেও এখনো পর্যন্ত এগুলো চালু করতে পারেনি স্টক এক্সচেঞ্জ। এ বছরের মধ্যেই এগুলো চালুর ব্যাপারে তাগিদ দেন তিনি।

বিএমবিএর নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিএমবিএর আগের কমিটি পুঁজিবাজার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছে। বর্তমান কমিটিও সে ধারা বজায় রাখবে। ইস্যু ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সেবার বাইরে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের বাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে হয়।

এজন্য বিএসইসির কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, বাজার উন্নয়নে বিএসইসির যেকোনো উদ্যোগে পাশে থাকবে বিএমবিএ। পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রেও বিএমবিএ সদস্যরা জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here