বিএটিবিসি থেকে সব বিনিয়োগ সরিয়ে দিচ্ছে সরকার

0
823

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশে তামাকজাত দ্রব্য বন্ধ করতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি) লিমিটেডের সরকারি অংশের শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে সরকার। চলতি বাজেট থেকেই এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে পরামর্শের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে ১৬ মে পত্রও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

কোম্পানি থেকে সরকারি সব বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে চলতি বাজেট প্রস্তাবনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা চিঠিটি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের কাছে পাঠিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

চিঠিতে ২০৩৮ সালের আগে দেশ থেকে তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধের আগে ২০ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিএটি বাংলাদেশ থেকে সরকারি শেয়ার তুলে নেয়া দরকার বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তামাকজাত দ্রব্য সম্পর্কে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০৪১ সালে আমাদের দেশে তামাক উৎপাদন ও ব্যবহার হবে না। এটা খুবই কঠোর ও উচ্চাভিলাষী সিদ্ধান্ত। তবে জনস্বার্থে এটি অত্যন্ত মূল্যবান সিদ্ধান্ত। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হলো, ২০ বছর মেয়াদি কার্যক্রম আগামী বাজেট থেকে শুরু করা। তবে তামাক চাষ ও তামাকের ব্যবহার বন্ধ করতে কৃষি মন্ত্রণালয়, দেশী বিড়ি, সিগারেট শিল্প, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও শিল্প মন্ত্রণালয়কে এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে।

জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কাছে বিএটিবিসির ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। এর মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে রয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ শেয়ার। যদিও আইসিবি গঠন হওয়ার পর সরকারি অংশের বেশির ভাগ শেয়ার প্রতিষ্ঠানটিতে স্থানান্তর করা হয়।

২০১০ সালে আইসিবির হাতে বিএটিবিসির ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ শেয়ার ছিল। পরবর্তীতে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার বিএটিবিসির মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান রেলিহ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয় আইসিবি।

সরকারের উল্লেখযোগ্য শেয়ারের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাধারণ বীমা করপোরেশনের কাছে রয়েছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের কাছে দশমিক ৩৩ শতাংশ ও সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে রয়েছে দশমিক ৬৪ শতাংশ শেয়ার, যা নিয়ন্ত্রণ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর চেয়ারম্যান গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা চাইলে যেকোনো সময় তাদের হাতে থাকা শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেন। এ কোম্পানিতে বর্তমানে সরকারের উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে। সরকার চাইলে সিকিউরিটিজ আইন মেনে এ শেয়ার ছেড়ে দিতে পারবে। আবার অন্য কেউ নিয়ম অনুযায়ী তা টেকওভারও করতে পারবে। এখানে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।

এদিকে চলতি ২০১৮ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিএটি বাংলাদেশের মোট বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৭৪ কোটি টাকা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে এর ইপিএস হয়েছে ৪৫ টাকা ৮২ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩৬ টাকা ৫৬ পয়সা।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সরকারের শেয়ার ধারণ চিত্র

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১৯৭৭ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এর পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। রিজার্ভে আছে ২ হাজার ২৫১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, শিল্প মন্ত্রণালয় দশমিক ৬৪, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১০ দশমিক ৪৫, বিদেশী ১৫ দশমিক ৩১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি দশমিক ৬৯ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here