বাড়ছে না তিতাস গ্যাসের মার্জিন বিতরণ

0
1067

সিনিয়র রিপোর্টার : তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আয়ের প্রধান উৎস বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার গ্রাহকপর্যায়ে সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ালেও তিতাসের বর্তমান বিতরণ মার্জিনই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি।

বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যমান মূল্যহার অনুযায়ী তিতাস লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। এক বছর আগে বিতরণ চার্জ কমানো হলেও বর্তমান মূল্যহারে সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানি পরিচালনায় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের প্রয়োজন হয়নি। প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে পরিচালন খরচ বাদে তিতাসের ৩৬০ কোটি টাকার মতো মুনাফা থাকবে। ফলে বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না তিতাসের।

জানতে চাইলে তিতাসের কোম্পানি সচিব মোশতাক আহমেদ বলেন, বিইআরসি থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাতে আমরা আশাহত। কোম্পানির আয়ের প্রধান উত্স বিতরণ মার্জিন কমিয়ে দেয়ায় তিতাসের মুনাফা অনেক কমেছে। আগের সিদ্ধান্তের পরই তা পুনর্নির্ধারণের আমরা আবেদন করেছিলাম। তবে শুনানি শেষে বিইআরসি আমাদের আবেদন নাকচ করে দেয়ার বিষয়টি কাঙ্ক্ষিত নয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যৎকরণীয় নিয়ে রোববার সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত বছরের ২৯ মার্চ গ্রাহকপর্যায়ে গ্যাসের মূলহার ও কোম্পানির বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বিইআরসির কাছে আবেদন করে তিতাস গ্যাস। আবেদনে তিতাসের বিতরণ চার্জ দশমিক ২২৬৮ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৩৮৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। তিতাসের প্রস্তাবের ওপর গত বছরের ৮ আগস্ট নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানির আয়োজন করে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। শুনানিতে জানানো হয়, তিতাস গ্যাসের বিতরণ রাজস্ব চাহিদা মেটাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ভারিত গড়ে শূন্য দশমিক ৪০২৯ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ঘনমিটারপ্রতি কোম্পানির আয় শূন্য দশমিক ৫৫৭৫ টাকা।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, তিতাসের আয়ের ৬০ শতাংশ আসে বিতরণ চার্জ থেকে। ২০১৫ সালের আগস্টে ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের মূল্য ও তিতাস গ্যাসের বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণ করে বিইআরসি। ওই সময় তিতাসকে বিতরণ চার্জ বাবদ প্রাপ্ত আয় আলাদা হিসাবে নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে তা ২২ পয়সা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তের পর বাজারে তিতাসের শেয়ারদর কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিট মুনাফা অনেক কমে যায় কোম্পানিটির।

উল্লেখ্য, আগের হিসাবে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রিতে তিতাস গ্যাসের আয় হতো ৯৭ পয়সা। এর মধ্যে ৫৫ পয়সা আসত বিতরণ মার্জিন থেকে। আর গ্যাস ট্রান্সমিশন চার্জ, সুদ ও বিবিধ আয় থেকে আসত বাকি ৪২ পয়সা। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশে বিতরণ চার্জ ৫৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ২৯ পয়সায় নামিয়ে দেয় বিইআরসি।

কমানোর যুক্তি হিসেবে তারা জানায়, তিতাস গ্যাসের বিতরণ রাজস্ব চাহিদা মেটাতে প্রতি ঘনমিটারে গড়ে ২৯ পয়সা প্রয়োজন হয়। আর বিদ্যমান অন্যান্য আয় (গ্যাস ট্রান্সমিশন চার্জ, সুদ ও বিবিধ আয়) বাবদ ৪২ পয়সা প্রাপ্তি বিবেচনায় তিতাস গ্যাস কোম্পানির বিতরণ চার্জ বাবদ আর কোনো আয়ের প্রয়োজনই হয় না। তবে বিষয়টিতে ভিন্ন মত দিয়ে চার্জ পুনর্নির্ধারণে বিইআরসির কাছে আবেদনপত্র দেয় তিতাস। তবে এক বছরের বেশি সময় পর তিতাসের বিতরণ মার্জিন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন নেই বলে জানায় বিইআরসি।

এদিকে বিতরণ মার্জিন কমানোর পর প্রথমবারের মতো চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের মুনাফা বেড়েছে তিতাসের। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে তিতাসের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯১ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ইপিএস হয়েছে ৮২ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৫৫ পয়সা।

২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় তিতাস গ্যাস। বর্তমানে এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ৫ হাজার ২০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ৯৮ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৮৩১টি; বর্তমানে যার ৭৫ শতাংশ রয়েছে সরকারের হাতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ১১, বিদেশী ১ দশমিক ৮৩ ও বাকি ৯ দশমিক শূন্য শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ৫৯ টাকা ৩০ পয়সায় তিতাস গ্যাসের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ৪১ টাকা ৪০ পয়সা।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে তিতাস গ্যাস শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৮ দশমিক শূন্য ৩, হালনাগাদ প্রান্তিক মুনাফার ভিত্তিতে যা ১৫ দশমিক ৫।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here