বার্জার পেইন্টসের মুনাফা কমেছে

0
304

স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের মুনাফা কমছে। বিক্রি ৯ শতাংশ বাড়লেও এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে। এর আগে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বার্জারের মুনাফা ১৮ শতাংশ কমেছিল।

বার্জার পেইন্টসের কোম্পানি সচিব খন্দকার আবু জাফর সাদিক বলেন, সর্বশেষ প্রান্তিকে বিক্রি ৯ শতাংশ বাড়লেও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে গত বছরের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এ কারণেই কোম্পানির নিট মুনাফা ও পরিচালন নগদপ্রবাহ কমে গেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গেল অর্ধবার্ষিকে বার্জার পেইন্টসের বিক্রি হয়েছে ৭০৫ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময় বিক্রি হয়েছিল ৬৪৭ কোটি টাকা। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে আগের তুলনায় উত্পাদন ব্যয় ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ৩৮৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে গ্রস মুনাফাও কমেছে। পাশাপাশি আলোচ্য সময়ে পরিচালন ব্যয়ও ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে বার্জার পেইন্টসের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৯৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১১৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন মুনাফা কমেছে ১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

প্রথমার্ধে বার্জারের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮৩ কোটি টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৯ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগে ছিল ৩৬ টাকা ১০ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩৬ টাকা ৮৪ পয়সা।

এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বার্জার পেইন্টসের নিট মুনাফা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৩১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা কমেছে ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা আগে ছিল ১৩ টাকা ৫৮ পয়সা।

কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে নিট বিক্রির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে ছিল বার্জার পেইন্টস। ২০১২ সালে ৭৬১ কোটি টাকার নিট বিক্রি থেকে পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। এর আগে কোম্পানিটি বিক্রয় প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে  ২০১৩ সালে ৮৭৯ কোটি, ২০১৪ সালে ১ হাজার ৮৮ কোটি ও ২০১৫ সালে ১ হাজার ২২৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।

বিক্রির পাশাপাশি এ সময়ে মুনাফায়ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে ছিল কোম্পানিটি।  ২০১২ সালে বার্জার পেইন্টসের কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৭৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে যা ২৩৯ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

২০০৬ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৩ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ৫৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯৫ শতাংশই এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ২ দশমিক ৫৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী ২ দশমিক শূন্য ৬ এবং বাকি দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here