বাটেক্সপোর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ বিজিএমইএ

0
335

BGMEA-sm2এস বি ডেস্ক : বাটেক্সপো-২০১৩’র মাধ্যমে বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একদিকে যেমন গত বছরের তুলনায় মেলার স্টল সংখ্যা কমেছে, অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় অর্ধেক বিদেশি বায়রাও আসেনি এ মেলা পরিদর্শনে।

মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, বাটেক্সপো মেলার উদ্দেশ্য কখনোই বিক্রি বাড়ানো নয়। এর মাধ্যমে বায়ারদের কাছে আমরা আমাদের পণ্য তুলে ধরি। চেষ্টা করি যাতে ভবিষ্যতে অর্ডার আসে। কিন্তু এবারের মেলায় আমরা বায়রদের তেমন দেখা পাইনি।

কিন্তু এমনটা কেন হয়েছে জানতে চাইলে পারপেল অ্যাপারেলস লিমিটেডের ওভারসিস ডিরেক্টর বলেন, আমরা যত সংখ্যক বিদেশি ক্রেতা আশা করেছি, তা পাইনি। এতে আমরা হতাশ। কারণ বছরে একবারই আমরা এতো বড় পরিসরে নিজেদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাই। কিন্তু অক্টোবর মাসে মেলা হওয়ায় অনেক ক্রেতা আসতে পারেনি। ফলে অনেক অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সময়পোযোগী না হওয়ায় আমরা সাড়া পাইনি।

অন্যদিকে ব্রাক্সটার ব্রেনটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হোসেন ভুইয়া বলেন, বাটেক্সপো মেলার যে পরিমাণ প্রচারের প্রয়োজন ছিল, তা করতে পারেন নি আয়োজকরা। ফলে মেলায় অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থী সংখ্যা উভয়ই কমেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্টলের মালিক বলেন, বিজিএমইএ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এই মেলায় নাকি বায়ারদের উপচে পড়া ভিড় হবে। উপচে পড়াতো দূরের কথা তেমন কোনো ভিড়ই দেখলাম না। দেশীয় ক্রেতাদের দেখা পেলেও বিদেশি ক্রেতাদের দেখা পাইনি। কিন্তু এই বাবদ বিজিএমইএ নেতারা যে খরচ করলেন তার কী হবে। মুখ বড় বড় কথা বললেই তো আর হবে না। কাজ কর্মেও তার প্রমাণ দেখাতে হবে।

বিজিএমইএ আয়োজিত ২৪তম বাটেক্সপো-২০১৩ শুরু হয় ১০ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। তিনদিনের এই মেলা ১২ অক্টোবর শেষ হয়।

গত বছর মেলার আয়োজন করা হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে স্টলের সংখ্যা ছিল ১৩৮টি। আর এবার স্টলের সংখ্যা ৫৮টি কমে দাঁড়িয়েছে ৮০টি।

মেলার শুরু আগেই সংশ্লিষ্টরা সময়পোযোগী না হওয়ায় মেলা না জমার আশঙ্কা করেছিলেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছিলেন, অক্টোবর মাস বিদেশিদের জন্য ওয়ার্কিং সিজন। ফলে অনেক ক্রেতাই অংশ নিতে পারবেন না।

সংশ্লিষ্টদের এমন বক্তব্য মেলার শুরুর আগে বিজিএমইএ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আমরা আশাবাদী। আমাদের উদ্দেশ্য সফল হবেই। কিন্তু শেষটায় যেন সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা বাস্তবায়িত হলো বলেই মনে করছেন পোশাক শিল্পের সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here