বাজেট ইতিবাচক, আরো ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

0
78

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সঙ্গে পোশাক খাতকে অপরিপক্ক মন্তব্য করে এ খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রস্তাবিত বাজেটে আরো ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করে বিজিএমইএ নেতারা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিয়ে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় আরো ২ শতাংশ প্রণোদনা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। কেননা, পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্রমেই বন্ধ হচ্ছে ছোট ছোট কারখানা। এ জন্য প্রণোদনা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

রাজধানীর একটি হোটেলে রবিবার প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে বিজিএমইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পোশাক রপ্তানিতে ১ শতাংশ বাড়তি প্রণোদনা দেয়ায় বাজেটে ৭০ ভাগ খুশি বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি এস এম মান্নান (কচি), সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহিম ও মো. মশিউল আজম (সজল)।

রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ অবদান রাখে। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে কয়েক কোটি মানুষ। প্রস্তাবিত বাজেটের আগে আমাদের দাবি ছিল ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনার। এতে টাকার পরিমাণ দাঁড়াতো ১৮ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। কিন্তু দেয়া হয়েছে এক শতাংশ হারে।

এটি যথেষ্ট নয়। এ জন্য চুড়ান্ত বাজেটে ৩ শতাংশ হারে বরাদ্দ দাবি করছি। মুদ্রার বিনিময় হারকে প্রণোদনা বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল ডলার প্রতি ৫ টাকা বিনিময় হার প্রদান। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। অথচ মোট রপ্তানি আয়ের ওপর ডলার প্রতি ১ টাকা অবমূল্যায়ন হলেও পোশাক খাতে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পায়, সে হিসাবে ১ শতাংশ প্রণোদনা কম।

এক প্রশ্নের জবাবে তৈরি পোশাক খাত একটি বিরাট চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ কারণে পণ্য বহুমুখীকরণ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এ খাতে প্রযুক্তির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। টেকনোলজি না থাকার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পেরে উঠা যাচ্ছে না।

রুবানা আরো বলেন, বিশের সবচেয়ে বেশি কমপ্লায়েন্স কারখানা এখন বাংলাদেশে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে পণ্যের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ছোট কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যাচ্ছে না। প্রতি মাসে কিছু কিছু করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রতিনিয়ত শুনতে হয়, আমরা ম্যাচিউরড, এস্টাব্লিশড। আর সাহায্য দরকার নেই। কিন্তু এটা ঠিক নয়। পোশাকে কিন্তু ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি নেই। গড়ে ৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত এক মাসে আমরা ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ঈদের আগে অনেকে মেশিন বিক্রি করে হলেও বেতন দিয়েছে।

পোশাক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দ বেশি থাকলেও বছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি টাকার প্রণোদনা উঠিয়েছি। নানা রকম আমলাতান্ত্রিক ঝামেলার কারণে অনেকেই ইনসেন্টিভ পান না, নেনও না। নতুন বাজারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা বাড়ানো উচিৎ। পোশাক খাতকে পরাজিত বনের বিড়াল বানাবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here