বাজেটে সুখবর তবু ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসেনি’

0
2411

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য পাঁচটি সুখবর থাকলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসেনি। বিশেষ করে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জকে পাঁচ বছর শতভাগ কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। সুবিধা দিলে পুঁজিবাজারে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা।

ডিএসই প্রাঙ্গণে রোববার দুপুরে বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, পরিচালক শাকিল রিজভী, খাঁজা গোলাম রসূল, শরীফ আনোয়ার হোসেন ও চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) জিয়াউল হাসান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বপন কুমার বালা বলেন, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন জাতীয় সংসদের গত অধিবেশনে উপস্থাপিত হলেও এখনো আইনটি পাস হয়নি। আইনটি পাস হওয়া এবং তার অধীনে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন ও বাস্তবায়ন পুঁজিবাজারে তথ্য সরবরাহে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত অর্থবিলে অসত্য আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১২৯বি ধারার অধীনে করদাতাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। আর ১৬৫এ ধারার অধীনে কমপক্ষে ৩ মাস ও সর্বোচ্চ ৩ বছর জেল অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিংয়ের মান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, স্ট্যাম্প ডিউটি যা প্রতিদান মূল্যের ১.৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য সকল অজড় সিকিউরিটির ক্ষেত্রে বাদ দেয়ার প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা (বর্তমানে এটি অজড় তালিকাভুক্ত শেয়ার অব্যাহতি আছে)। বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের দ্বিতীয় একটি বাঁধা হল ৫৩ বিবিবি ধারার অধীনে ট্রেকহোল্ডারদের লেনদেন ভিত্তিক ০.০৫ শতাংশ হারের উৎসে কর। এটিও উৎসে কর্তন থেকে বাদ দিয়ে এ্যাসেসমেন্ট ভিত্তিক আরোপিত হওয়া দরকার।

পুঁজিবাজারের স্বার্থে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ বা এর বেশি লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আয়কর রেয়াত বহাল রাখা। তালিকাভুক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির হ্রাসকৃত করহার পেতে পূর্বে কমপক্ষে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার এবং ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার একটি শর্ত ছিল, যা এখন তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৬ই ধারা অনুসারে, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি ব্যতীত অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ না দিলে অবণ্টিত মুনাফার উপর ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথ রচনা’ শিরোনামে বাজেট পেশ করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন। এবারে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুগোপযোগী বাজেট পেশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আশা করে যে, সরকারের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য যে সমস্ত প্রস্তাবা রাখা হয়েছে তাতে বাজারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। বেসরকারি খাতের শিল্পোদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী হবে। এতে শিল্প খাত আরও শক্তিশালী ও বিকশিত হয়ে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যা দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে যে সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়-

পুঁজিবাজারে কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ প্রদানের জন্য করহার ২.৫ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করের হার ৪২.৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পাবলিকলি ট্রেডেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি কি হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করলো তার ওপরে করহারের কোন হেরফের হবে না।

ষষ্ঠ তফসিলের পার্ট (এ) এর ১১এ অনুচ্ছেদ অনুসারে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হতে প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশ আয়ের উপর করমুক্ত সীমা ২০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফিক্সড ইনকাম মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে প্রাপ্ত আয়ের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনিবাসি কোম্পানি কর্তৃক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হতে প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশ আয়ের উপর প্রযোজ্য ৫৪ ধারায় উৎসে কর (কোম্পানির কর হারে, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ হারে) ৫৬ ধারায় এনে উৎসে কর হার কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কোম্পানি ও ফার্মের মূলধনী লাভের উপর প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তনের বিধান বাতিল করা হয়েছে। কোম্পানি বা অংশীদারি ফার্ম কর্তৃক পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ হতে অর্জিত মূলধনী মুনাফার ওপর বিদ্যমান আইনে ১০ শতাংশ হারে গত বছর থেকে ৫৩ও ধারায় উৎসে কর কর্তনের বিধান আছে; যা ট্রেকহোল্ডার, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর দায়িত্ব ছিল। এই বিধান প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে উক্ত কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বলবৎ থাকবে।

এ ছাড়া বন্ড মার্কেট উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ড মার্কেট উন্নয়নের স্বার্থে ট্রেজারি বন্ড এবং ট্রেজারি বিলের সুদের ওপর ৫১ ধারার অধীনে ক্রয়কালেই উৎসে ৫ শতাংশ হারে কর কর্তনের বিধান প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ষষ্ঠ তফসিলের পাট (এ) এর ২২এ অনুচ্ছেদ অনুসারে ইক্যুইটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ফিক্সড ইনকাম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয় উভয় ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা।

‘পেনশন ফান্ড’ গঠন এবং তা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের যে প্রস্তাব বাজেটে আছে, তা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here