বাজেটে মধ্যবিত্তের করের বোঝা বাড়ছে : সিপিডি

0
151

সিনিয়র রিপোর্টার : মধ্যবিত্ত এবং বিকাশমান মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, দেশে ভোগ, আয় ও সম্পদের বৈষম্য দূর করতে বাজেটে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ ছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়েও সংশয় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সিপিডি আয়োজিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০১৮-১৯ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডি বলছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। এজন্য ১১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই অর্থ বিনিয়োগকে বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই হার ঠিক রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে সিপিডি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগে এক হাজার ১০০ বর্গফুটের ছোট ফ্ল্যাটের দামের ওপর দেড় ভাগ হারে কর দিতে হতো। আর এক হাজার ৬০০ বর্গফুটের জন্য যা ছিল আড়াই শতাংশ। এখন দুটোকে গড়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। যাতে মধ্যবিত্ত এবং বিকাশমান মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে।

এদিকে ব্যাংক খাতের করপোরেট ট্যাক্স আড়াই শতাংশ কমানোর সমালোচনা করে সিপিডি বলছে, ব্যাংকের লুটপাট ঠিক না করে কর কমানো উচিত হয়নি। এতে মালিকপক্ষ এককভাবে লাভবান হবে। ঋণগ্রহীতা এবং আমানতকারী কোনো সুবিধা পাবে না।

গুলশানের লেকশোর হোটেলে সিপিডি আয়োজিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০১৮-১৯ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অনুষ্ঠানে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন, ই-কমার্সের ক্ষেত্রে তরুণদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। তাদের ওপর করের বোঝা চাপানোতে বিকাশমান কর্মসংস্থানে ধাক্কা লাগতে পারে। এ ছাড়াও উবার, পাঠাওয়ের ক্ষেত্রে কর আরোপ করা হয়েছে। যা ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়বে। মধ্য মেয়াদি অবকাঠামোর জন্য বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কমেছে।

তিনি বলেন, দেশে ভোগ আয় এবং সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে। প্রবৃদ্ধির হার উঁচু বা নিচু হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টিকেও প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা দেখেছি ৫ শতাংশ অতি দরিদ্র মানুষের আয় ৬০ শতাংশের ওপর কমেছে। আবার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষের আয় বেড়েছে। এই অর্থনীতিতে শ্রম এবং উদ্যোগের তুলনায় পুঁজি বিনিয়োগে আয়ের সুযোগ অনেক বেশি। এতে উন্নয়নের সুবিধা গরিব মানুষ পাচ্ছে না।

বাজেট পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এখন দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার ৬০ শতাংশ ঋণ নিয়েছে। এতে সরকারের টেকসই ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা বিনষ্ট হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়। বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া ঋণের জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা সুদ দিতে হবে।

সঞ্চয়পত্রের ঋণের জন্যও সরকারকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সুদ দিতে হবে। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না নিতে, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করতে গেলেও তারল্য সংকট দেখা দেবে। বিষয়টি সরকারের জন্য অনেকটা শাখের করাতের মতোই বলে মনে করছে সিপিডি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাজেটে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ডলারপ্রতি ৮২ টাকা দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখনই ডলারের দাম ৮৪ টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ১৫ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ খাত এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জন্য বাকি ৫৫ শতাংশ অন্য ২২ মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের জন্য। এই পরিমাণ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ক্ষমতার সমালোচনা করে সিপিডি বলছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৫৩ ভাগ প্রকল্পকেই চলমান প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এক-চতুর্থাংশ প্রকল্পকে শেষ হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে। বাকিটা প্রকল্প গ্রহণ-বর্জনের মধ্যে রয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ১৪ প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি নেই।

এডিপির ৬৪ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এখানে মাত্র এক লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পগুলো আটকে রাখা হয়েছে। এ ধরনের আরো ৯০টি প্রকল্প আছে, যার বরাদ্দের পরিমাণ এক কোটি টাকার মধ্যে। প্রকল্পগুলোর বয়স ৪.৬ বছর। কিন্তু এসব প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল এক থেকে দুই বছরের মধ্যে।

বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই মুহূর্তে বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতুর সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটিতে ৩ শতাংশ হারে সময় বেড়েছে। ব্যয় বেড়েছে ১.৮৩ শতাংশ হারে। ব্যয় আরো বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নে কোনো নতুন পদক্ষেপ নেই। শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয়ের সমালোচনা করে বলা হয়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতেই ৭.৮ শতাংশ বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here