বাজেটের আকার ১০ বছরে বেড়েছে ৪ গুণ, উপস্থাপন বৃহস্পতিবার

0
168

বিশেষ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে ১০ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। ২০০৯ সালে দলটি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বাজেটের আকার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এরপর পর্যায়ক্রমে বাজেটের আকার দুই, তিন ও চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে বাজেট এখন ৫ লাখ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই করছে।

আগামী ৭ জুন বৃহস্পতিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই বাজেটের আকার ধরা হতে পারে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ক্ষমতাসীন সরকারের ১০ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে চার গুণেরও বেশি।

বাজেট বৃদ্ধির এই হারকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দুই মেয়াদে গড় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর অর্থ, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে। অর্থনীতির আকার বাড়লে বাজেটের আকারও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

তবে প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও বাস্তবায়নের হার কমছে। অর্থবছরের শুরুতে যে বাজেট ঘোষণা করা হয়, বছর শেষে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এটা বাজেটের আকার বাড়াটাকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রতিবছর বড় হচ্ছে। আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদে গড় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ছে।

তিনি বলেন, আকার বাড়লেও প্রতিবছর বাজেট বাস্তবায়নের হার কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে বাস্তবায়নের হার ৮০ শতাংশের বেশি ছিল, এখন তা কমে ৭৬-৭৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এটা বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা। তিনি বলেন, বড় বাজেট দিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলো বাস্তবায়ন করতে না পারাটা।

আওয়ামী লীগের টানা ১০ বাজেট : ২০০৯ ও ২০১৪ সালে টানা দুই দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ৯টি বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৭ জুন সরকারের দশম এবং দেশের ৪৮তম বাজেট ঘোষণা করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বাজেট। স্বাধীনতার পর কোন সরকার টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করতে পারেনি। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য একটি নতুন রেকর্ড হতে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের গত দুই আমলে বাজেটের আকার : ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আবুল মাল আবদুল মহিত। তিনি ২০০৯ সালের ১১ জুন (৩৯তম) ২০০৯-১০ অর্থবছরের ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট দেন। এই বাজেটটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ

রপর ২০১০-১১ অর্থছরে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার ঘোষণা করা হয়। আগামী ৭ জুন উপস্থাপন করা হবে দেশের ৪৮তম বাজেট।

বাজেট বাস্তবায়নের হার : অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১০-১১ সালে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে বাস্তবায়ন ৯৩ দশমিক ১৮ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৮ দশমিক ৫০ শতাংশ মূল বাজেট বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এছাড়াও, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছর এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের হার ৭৬-৭৭ শতাংশের কাছাকাছি বলে জানা গেছে।

প্রথম বাজেটসহ বিভিন্ন সময়ের বাজেটের আকার : স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জুন (১৯৭২-৭৩ অর্থবছর) ৭৮৬ কোটি টাকার বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয়। এরপর দশম বাজেট ঘোষণা করা হয় ১৯৮১ সালের ৬ জুন। এর আকার ছিল ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। প্রথম দশকে বাজেটের আকার বাড়ে ৬ গুণ।

এরপর ১৯৯১ সালের ১২ জুন ঘোষিত ২০তম বাজেটের আকার ছিল ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দশকে বাজেটে আকার বাড়ে তিন দশমিক ৩৩ গুণ। এরপর ২০০০ সালের ৮ জুন ঘোষিত দেশের ত্রিশতম বাজেটের আকার ছিল ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। এই দশকে বাজেটের আকার বাড়ে আড়াই গুণ।

২০১০ সালের ১০ জুন, ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য আগামী ৭ জুন ঘোষিত বাজেটের আকার হতে পারে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here