বাজার ভালো করতে কি ভূত তাড়ানো প্রয়োজন?

0
1057

নিম্নমূখী বাজার। গত ১২ কর্মদিবস ধরে বাজার নিম্নমূখী প্রবণতায়। বাজার উন্নয়নে এবং বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের আগাম ধারণা দিতে অনেক এনালিস্ট আছেন। বাজার বিষয়ে অনেক এক্সপার্ট আছেন কিন্তু কেউ কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। বাজারকে মনে হয় ভুতে ধরেছে। ভুত? একাবিংশ শতকে?

যখন মানুষ কোন কারণ খুঁজে পায় না, তখন ‘প্যারানরমাল’ বিষয়ের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। তখন কোন একটি সমাধান খুঁজতে চায়। আমার চেষ্টাও তাই- কোন ভুত খুঁজে পাই কিনা? বলা তো যায় না-

একটি গল্প বলি : প্রেমিকা যখন প্রেমিককে ছেড়ে যান- তখন নতুন কিছু গল্প বুনতে থাকি। আমি আজকে অমুক হতে পারতাম, আমি ঠিক তমুক হতে পারতাম। শুধু পারলাম না তোমার জন্য। এ ‘তুমি’ হলো পুঁজিবাজারের ‘তারল্য’ বা টাকার প্রবাহ। বাজারে টাকা নাই, তাই বাজার ভালো হচ্ছে না। কেউ একজন টাকার ব্যবস্থা করে দাও। বাজার হুড়-হুড় বাড়তে থাকবে। ভালো হয়ে যাবে।

বলতেই আলাদীনের জীন এসে হাজির; মুদ্রানীতি। অনেক অভিজ্ঞ আর পিএইচডি ডিগ্রি ধারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তৈরি মুদ্রানীতি। সব থেকে বড় টুলস হোল সিআরআর এবং এসএলআর। বাজারে কি পরিমাণ অর্থের প্রবাহ থাকবে, কি পরিমাণ অর্থ থাকলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি হবে না, এই সব হিসাব নিকাষের একটি উপযুক্ত মাধ্যম হোল- সিআরআর।

চা খেতে খেতে সিআরআর ১% কমে গেল আর বাজারে চলে এলো ১০ হাজার কোটি টাকা। বাহ! জীন, বাহ! তারল্য সমস্যার সমাধান! এবার পুজিবাজার ভালো না হয়ে আর যায় কোথায়?

এবার লাইট অফ করে ভুতের সিনেমা দেখতে হবে। ভুত ধরবোই। পুঁজিবাজার ভালো করবোই। এবার আরেকটু পিছনে ফিরে যাই। ফ্ল্যাশ ব্যাকে নায়িকা তার নায়কের কাছে আসতে চাইছে, আর বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে নায়িকার বাবা!

এবার প্রেক্ষাপট পুঁজিবাজার। এডিআর রেশিও অনেক বেড়েছে। ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারণে। এবার নায়িকার বাবার হাত কেটে দাও।

তাহলেই নায়ক-নায়িকার মিলন! এডি রেশিও সমন্বয় করার জন্য তিন দফা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় নেয়া হল। এবার আর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ঠেকায় কে? এবার পুঁজিবাজার এগিয়ে যাবে সুপার সনিক গতিতে। হবে সকল মুশকিল আহসান!

হোল না। আবার ধাক্কা খেয়ে গড়িয়ে পড়ল। কি যে হোল? ভুত তো ঘাড় থেকে নামছেই না! এবার স্পিড আরও বাড়াই। সামনে এগিয়ে আসি। সবই তো পেলাম, যা চেয়েছি। সরকারি ফান্ড আর বাদ থাকবে কেন? সরকারি ফান্ডের ২৫% এতোদিন ধরে সরকারি ব্যাংকে যেত। এখন থেকে সব ব্যাংক পাবে সমানে সমান।

আহ! চারিদিকে শুধু টাকা আর টাকা! তারল্যের থৈ থৈ! এবার পুঁজিবাজারের জয়রথ আর থামায় কে? কিন্তু কি যে হোল, গাড়ির চাকা কাদায় পড়ে গেল। আবারো সেই ভুত!

মাঝে একজন ওঝা এলেন চীন-ভারত মন্ত্র নিয়ে। উনি সব কিছু দেখে বললেন, পুঁজিবাজারের কাঁধে ভুত উঠেছে। চীন-ভারত ভূত! এই ভূত নেমে গেলে বাজার ঠিক হয়ে যাবে। আমরা বাজার থেকে ভালো দেখে ঝাড়ু কিনে আনলাম। ঝাড়ু দিয়ে বাজার ভালো মত ধোলাই করলাম।

অল্প কিছু ইনডেক্স ফণ্ট করল কিন্তু ওটা ব্যাপার না। ভূত তো নামলো। অবশেষে সেই ভুতও নেমে গেল!  এখন বাজার দৌড়াবে পাগলা ঘোড়ার মত। কিন্তু হায় ফের আগের মতো ঠিক নিচের দিকে নামছে। তবে উঠছে না-

গত ৩০ এপ্রিল থেকে বাজার ধারাবাহিকভাবে পাগলা ঘোড়ার মত তলানির দিকে দৌড়াচ্ছে। কারো কোন হুঁশ নেই। হুঁশ থাকবেই বা কি করে এখন তো সর্ষের মধ্যেই ভূত ঢুকে বসে আছে। ভূত তাড়াবে কি দিয়ে? চেষ্টা তো কম হোল না।

এখন কফিনে দেয়ার মত আর একটা পেরেক অবশিষ্ট আছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা। ব্যাংকের পুঁজিবাজার বিনিয়োগ ২৫% এর উপরে নিয়ে যেতে হবে। ভূত তাড়ানোর সব চেষ্টাই যখন করলাম, এটা আর বাদ থাকবে কেন?

ওহ! আরেকটি বিষয় তো বলতে ভুলেই গেছি। গরিব বাবা মেয়ের বিয়ের জন্য কিছু টাকা সঞ্চয় করেছিল। দুষ্টু ভুতের নজর পড়েছে সেই সঞ্চয়ের উপর। কানাঘুষা চলছে সঞ্চয়পত্রের হারও নাকি কমে যাবে! যাক কমে! যদি ভূত টা বাজারের ঘাড় থেকে নামে, তাহলেই আমাদের  স্বস্থি !!

তাহলে, সত্যি কি বাজারে ভুত ঢুকেছে? ঠিক জানিনা। তবে শেষ করতে চাই একটি গল্প দিয়ে।

এক ওঝার আঙ্গুলের মাথায় ব্যাথা। সে ওই আঙ্গুল দিয়ে শরীরের যেখানে স্পর্শ করে সেখানে ব্যাথা অনুভব করে। সে শরীরের সব স্থানের চিকিৎসা করার পরেও তার ব্যাথার উপশম হল না। তখন আমার মত একজন সাধারণ সমরিতা শমি সাহস করে বলে উঠলো… ওহে ওঝা! আর ভূত তাড়ানোর দরকার নেই। আগে তোমার হাতের আঙ্গুলের চিকিৎসা কর, সমস্ত শরীরের সব ব্যাথা সেরে যাবে…। (ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)

  • বম্য লেখক : সমরিতা শমি 
    স্থান : SOMI INSTITUTE OF STOCK MARKET (SISM)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here