শ্যামল রায়ঃ আমি নাফিস আদনান। একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। বলা যায় এটাই এখন আমার একমাত্র পেশা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করি, যাতে ভদ্রভাবে ব্যবসা করা যায় আবার ভাল থাকা যায়। কিন্তু এসব স্বপ্ন এখন আমার কাছে টেনশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিনের পর দিন লোকসান গুনতে গুনতে রাতে ঘুমাতে পারি না। এখান থেকে বেরিয়ে যে যাব সে পথ ও আর খোলা নেই। আমি নিস্ব, রিক্ত। আমি গরীব ছিলাম কিন্তু শেয়ার বাজার আমারে ফকির বানাইয়া ফালাইছে। আমি সর্বক্ষণ একটা অর্থ খোয়ানোর টেনশন নিয়ে ঘুমাতে যাই। ঘুম থেকে উঠেই আবার ঐ ঘোরের মধ্যে চলে যাই।

আমি চাই না আর কোন বিনিয়োগকারী এভাবে নিস্ব হোক। শেয়ার বাজারে আসার আগে অনেককেই অনেক রকম বড় বড় কথা বলতে শুনেছি কিন্তু এখন বুঝতেছি শেয়ার বাজারে কেউ কারও উপকার করে না। একজন আরেক জনকে ধরা খাওয়াইয়া মনে মনে ভাবে ব্যাটা আমি ধরা খাইছি তুইও ধরা খা। তা না হলে দেখবেন কয়জন লোক শেয়ার বাজার থেকে বিনিয়োগ করে লাভ ঘরে উঠাতে পারে। আমি তো সবার পোর্টফোলিও দেখি। সবার এক অবস্থা। সবার পোর্টফোলিওতে মাইনাস। প্লাসটা তাহলে কে। আর এই টাকা গুলোই বা যায় কোথায়। তারপরেও কেন মানুষ এইভাবে বিনিয়োগ করে।

বেশ কয়েকদিন ধরেই বাজারে ব্যাপক উঠানামা চলছে । সবাই ভাবছি এই বুঝি বাজার বাড়বে, ভাল হল। কিন্তু হয় না। বিজলী চমকানোর মত করে একদিন ইনডেক্স প্লাসে থাকলে আবার এটা ১ সপ্তাহ মাইনাসে চলে যায়। আমার মনে হয় এটাও একধরনের ব্যাপক হারে দর পতন। কারন সব সময় একই নিয়মে পতন হবে তা হয়তো নয়। এটা আমরা বুঝতে পারবো আরও পরে। কারন ১৯৯৬ সালেও এরকমই ঘটেছিল।

বিনিয়োগকারীরা যদি বুঝতে পারতো এখন বাজার পরবে তাহলে বের হয়ে যেত। হয়ত ৯৬ সালের ধ্বস, ২০১০ সালের ধ্বস কিংবা ২০১৭/১৮ সালের দর পতন এক রকম নয়। তাই আমরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এটা বুঝতে পারছি না। তারা লাভ নিচ্ছে সটকে পরছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারাচ্ছে। আসলে বিনিয়োগকারীদের কান্না দেখে কে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here